এই সময়: বাংলার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। তারা রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরি করবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে এই প্রকল্প নিয়ে তাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর এমডি কর্ণ আদানি ৬ জুন নবান্ন এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিউ টাউনে ‘আদানি হেলথ সিটি’ তৈরির প্রস্তাব দেন। এর নাম দেওয়া হবে ‘আরোগ্য মন্দির’। নিউ টাউনের ‘বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি’-তে আদানি গোষ্ঠীর ডেটা সেন্টার ও ‘বেঙ্গল টেক পার্ক’-এর কাজ চলছে। এর জন্য তাদের ৫৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। হেলথ সিটি তৈরি করতে প্রায় সম–পরিমাণ জমি দরকার।
আমেরিকার বিখ্যাত মেয়ো ক্লিনিক চেনের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এই হাসপাতাল পরিচালনা করতে চায় আদানি গোষ্ঠী। রোবটিক সার্জারির মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসার সুযোগ থাকবে এই হাসপাতালে। শুধু চিকিৎসাই নয়, মেডিক্যাল পঠনপাঠনের ব্যবস্থাও থাকবে। এর জন্য ১৫০ আসনের এমবিবিএস পঠন-পাঠনের মেডিক্যাল কলেজ, ৬০ আসনের নার্সিং কলেজ এই ক্যাম্পাসে থাকবে। এ ছাড়াও এমডি পড়ার জন্য ৮০টি আসন থাকবে। পাশাপাশি থাকবে গবেষণার সুযোগও। কলকাতার প্রস্তাবিত এই এক হাজার শয্যার হাসপাতলে আর্থিক ভাবে দুর্বলদেরও চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। সব ঠিকঠাক থাকলে পুজোর আগেই এই প্রকল্পের সূচনা হবে—এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
এই হাসপাতাল তৈরিতে কত খরচ হবে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তবে আদানিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সামাজকল্যাণ তহবিলের একটি অংশ হিসেবে ৬০,০০০ কোটি টাকা দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০ বছর ধরে ধাপে ধাপে এই বিনিয়োগ হবে। তৈরি হবে ৩০টি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রথম দফায় আমেদাবাদ এবং মুম্বইয়ের হেলথ সিটি ক্যাম্পাসের জন্য ৬,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর পরের ধাপে বাংলায় বিনিয়োগ হবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। নিউ টাউন অ্যাকশান এরিয়া-টুতে ৫২ একর জমির খোঁজ মিললেও এখনও তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পরিকাঠামোগত নকশা অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।