• নন্দীগ্রামে প্রার্থী কে? মেঘনাদ এবং অঞ্জনকে নিয়ে প্রচার যুদ্ধে বিজেপি
    বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: নন্দীগ্রাম উপ-নির্বাচন নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও হাইভোল্টেজ এই আসনে অকাল ভোট নিয়ে ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। হলদিয়া মহকুমা শাসক অফিসে ইভিএম চেকিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া রাজ্য রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সিটে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে এখন সরগরম জেলা রাজনীতি। কারণ, নন্দীগ্রাম বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ দুই বিজেপি নেতার নামে তাঁদের ঘনিষ্ঠরা জোরালো প্রচার শুরু করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে এই প্রচার চলছে। কর্মীদের একটা অংশ চাইছে,দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালকে প্রার্থী করা হোক। অপর অংশের বাজি, দলের জেলা সহ সভাপতি অঞ্জন ভারতী। ‘নন্দীগ্রামের গর্ব শুভেন্দু’র পেজ থেকে ধারাবাহিকভাবে অঞ্জনবাবুকে প্রার্থী হিসেবে দাবি করে পোস্ট করা হচ্ছে। আসলে দু’জনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত সেনাপতি। শেষপর্যন্ত কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

    এনিয়ে মেঘনাদ পাল বলেন, ‘বিধানসভা উপ নির্বাচনে প্রার্থী কে হবেন তানিয়ে আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। এখান থেকে শুভেন্দুবাবু নিজে জয়ী হয়েছেন। তারপর সংসদীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় তাঁকে আসনটি ছাড়তে হয়েছে। প্রার্থী কে হবেন, সেটা দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।‘অন্যদিকে অঞ্জনবাবুও বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তই শিরোধার্য। কর্মীরা কি পোস্ট করছেন, সেটা বড় কথা নয়।’

    মেঘনাদ পালের বাড়ি নন্দীগ্রাম-১ব্লকের হরিপুরে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একটা বড় অংশ তাঁকে নন্দীগ্রামের রাজনীতির চাণক্য বলে সম্বোধন করেন। তিনি শুভেন্দুবাবুর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক ও দক্ষ সংগঠক। ২০২০সালে ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার কারণে তাঁর উপর দিয়ে অনেক ঝড় ঝাপ্টা বয়ে গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের নন্দীগ্রাম শাখার ম্যানেজার ছিলেন। তাঁকে সেই চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। মেঘনাদবাবু নিজে জেল খেটেছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দুবাবু একাধিকবার নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে মেঘনাদ পালের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন।

    অন্যদিকে, অঞ্জন ভারতীও মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। আইটিআই কলেজের কর্ণধার এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ২০২০সালে শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি নন্দীগ্রাম-২ব্লকের নেতা। ওই ব্লকের নেতা পবিত্র কর প্রার্থী ঘোষণার দিন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং প্রার্থী হন। বিজেপিতে তাঁর জেলা সহ সভাপতির পদটি কয়েকদিন আগে অঞ্জন ভারতীকে দেওয়া হয়েছে। পার্টিতে অঞ্জনবাবুর গুরুত্ববৃদ্ধি হতেই নন্দীগ্রাম উপ-নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অঞ্জনবাবুর ঘনিষ্ঠরাও তাঁর ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো প্রচার করছেন। ভাবী এমএলএ হিসেবে এআই ফটো দিয়েও প্রচার চলছে। 

    এদিকে আবার দলের কেউ কেউ জেলা সহ সভাপতি প্রলয় পালের পক্ষে। এই মুহূর্তে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূলের নিশান কার্যত মুছে গিয়েছে। নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূল কার্যালয় তালাবন্ধ। সেখানে বিজেপির পতাকা উড়ছে। তাই লড়াই যে একতরফা, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেজন্যই বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা চলছে।  
  • Link to this news (বর্তমান)