• কাঁথির বাহিরীতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্ধকারে জগন্নাথদেবের দেউল, ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর
    বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাঁথি: একদিকে দীঘার জগন্নাথ মন্দির ঘিরে উন্মাদনার শেষ নেই। কিন্তু সরকারি উদাসীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কাঁথির প্রাচীন জনপদ বাহিরীতে পুরাকীর্তির নিদর্শন জগন্নাথদেবের মন্দির ক্রমশ যেন অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। মন্দির তথা দেউলের রঙ চটে  মলিন হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে গোটা দেউল চত্বর আগাছায় ভরে গিয়েছে। বাগানে আলোর ব্যবস্থা বিকল। তাছাড়া বর্তমানে দেউল চত্বরে ঢোকার জন্য দু’দিকে থাকা লোহার গ্রিলগেটেই ঝুলছে তালা। চাইলেও ভিতরে কেউ ঢুকতে পারেন না। বাইরে থেকেই এই দেউল দর্শন করতে হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা  ইতিহাসপ্রেমী মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনি হতাশও। কাঁথি-৩ এর বিডিও দীপক ঘোষ বলেন, আগে একটি প্রশাসনের তরফে দেউল সহ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছিল। কী করা যায়, আমরা দেখছি।  ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর দেউলের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পরিবহণমন্ত্রী তথা বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পালাবদলের পর অবিলম্বে এই দেউল সংস্কার সহ সংলগ্ন স্থান পরিচ্ছন্ন করে দর্শনার্থীদের সুষ্ঠুভাবে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি তুলছেন এলাকাবাসী। 

    উল্লেখ্য, ১৫৮৪ সালে এই দেউল গড়ে ওঠে। তৎকালীন সময়ে এলাকাটি দণ্ডভুক্তি প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওড়িশার রাজা বিভীষণ দাসমহাপাত্র এই দেউল নির্মাণ করে রাজগুরু গদাধর নন্দকে দেখাশোনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। উৎকল রীতি অনুসারে দেউল ও জগমোহনের (ছোটো দেউল) সম্মিলিত রূপ এই স্থাপত্য। মূল দেউলটির উচ্চতা প্রায় ৬০ফুট। সামনের জগমোহনের উচ্চতা ৪০ ফুট। তবে এখানে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার কোনো বিগ্রহ থাকে না। ফলে পুজোও হয় না। এলাকাতেই আলাদা মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানেই পুজিত হন জগন্নাথদেব। ওই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেই রথযাত্রার দিন বের হয় রথ। দীর্ঘকাল জগন্নাথদেবের প্রাচীন দেউলটি জীর্ণ অবস্থায় পড়েছিল। দেউল পরিচালনায় রয়েছে বাহিরী ‘জগন্নাথ জিউ সেবা সমিতি’ নামে ট্রাস্টি বোর্ড। ২০১৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব ও সংগ্রহালয় অধিকার দপ্তরের অর্থানুকূল্যে ৭৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দেউলের সংস্কার হয়। দেউলটি মূলত ইটের রং ছিল। তা সাদা রঙ করা হয়। পাশাপাশি দেউলের চারদিকে বাগান করা হয়। বাগানের চারিদিকে হয় আলোর ব্যবস্থা। বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা যাতে রাত্রিবাস করতে পারেন, তার জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গেস্টহাউসও গড়ে ওঠে। এতসবের পরেও দু’তিন বছর পর ছবিটা বদলে যায়। দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাগানে ক্রমশ অসামাজিক কাজ বাড়তে থাকে। আলোর কাঠামোগুলিও চুরি হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে মন্দির কর্তৃপক্ষ বর্তমানে গেটে তালা দিয়ে রাখে। এদিকে দোতলা গেস্টহাউস তৈরি হলেও এখানে বিদ্যুৎ, আসবাবপত্র, জলের পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে গেস্টহাউস আজও চালু হয়নি। সেবায়েত সমিতির সম্পাদক সুদীপ্ত নন্দ বলেন, আগাছা পরিষ্কার করে বাগান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আলোর পরিকাঠামো ঠিক করতে হবে। সবকিছু আগের মতো করতে অনেক খরচ। তাই সরকারিভাবে এর দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। 

    স্থানীয় বাসিন্দা রাজদুলাল নন্দ বলেন, বাহিরীর দেউল পুরার্কীতির অন্যতম নিদর্শন। দীঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা প্রাচীন এই নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন। এলাকার গুরুত্ব বাড়বে।
  • Link to this news (বর্তমান)