একযোগে ১৮ কাউন্সিলারের পদত্যাগ, ভাঙল নবদ্বীপ পুর বোর্ড
বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শেষমেশ ভেঙেই গেল তৃণমূল পরিচালিত নবদ্বীপ পুর বোর্ড। শুক্রবার একসঙ্গে ১৮ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করলেন। এর আগে চারজন কাউন্সিলার ইস্তফা দিয়েছিলেন। ফলে সব মিলিয়ে মোট ২২ জন কাউন্সিলার ইস্তফা দিলেন। ২৪ সদস্যের পুর বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলারের পদত্যাগের ফলে কার্যত বোর্ডের পতন ঘটল। স্বাভাবিকভাবেই এবার পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে নবদ্বীপ পুরসভার ১৮ জন কাউন্সিলার একযোগে তাঁদের পদত্যাগপত্র পুরসভায় জমা দেন। এর আগে ভাইস চেয়ারম্যান শচীন্দ্র বসাক সহ চারজন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে এদিনের পর মোট ২২ জন কাউন্সিলার ইস্তফা দিলেন।
উল্লেখ্য, ২৪টি ওয়ার্ডের নবদ্বীপ পুরসভায় গত নির্বাচনে সবকটি আসনেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পুর বোর্ডে ভাঙনের সূচনা হয় গত ১১ জুন, যখন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মিতালী হালদার পদত্যাগ করেন। এরপর ২ জুলাই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ঝন্টুলাল দাস এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নিতাইচন্দ্র দাস পদত্যাগ করেন। একই সময়ে শচীন্দ্র বসাক প্রথমে তাঁর ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং পরে কাউন্সিলার পদ থেকেও ইস্তফা দেন। সূত্রের দাবি, শুক্রবারের পর অবশিষ্ট থাকা একমাত্র কাউন্সিলার আগামী দিনে পদত্যাগ করতে পারেন।
নবদ্বীপ পুরসভায় এদিনের পদত্যাগী কাউন্সিলারদের প্রতিনিধি গৌরাঙ্গচন্দ্র রায়ের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে পুর পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার প্রবীণ তৃণমূল নেতা শ্যামাপ্রসাদ পালের বাড়িতে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলারদের বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার উপস্থিত অধিকাংশ কাউন্সিলার পদত্যাগপত্র জমা দেন। গৌরাঙ্গবাবুর দাবি, এর আগে চারজন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছিলেন। বাকি থাকা একমাত্র কাউন্সিলারও আগামী দিনে পদত্যাগ করবেন।
বিজেপির নবদ্বীপ শহর দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি সমীর রায় বলেন, পুরসভার চেয়ারম্যান জেলে রয়েছেন। চেয়ারম্যান ছাড়া অধিকাংশ কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় দু’ মাস কেটে গেলেও বিওসি (বোর্ড অব কাউন্সিলরস) না থাকায় কর্মীদের বিল পর্যন্ত পাস হচ্ছে না। আমরা কখনও চাই না নবদ্বীপ পুরসভার পরিষেবা ব্যাহত হোক। তাই দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলারদের অনুরোধ করেছিলাম, তাঁরা যেন মাঠে নেমে মানুষের জন্য কাজ করেন, না হলে পদত্যাগ করেন। কারণ বিওসি না থাকলে প্রশাসক (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) নিয়োগই একমাত্র উপায়। কিন্তু পদত্যাগ না করে পরিকল্পিতভাবে অচলাবস্থা তৈরি করা হচ্ছিল।
নবদ্বীপ পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সঞ্জীবকুমার রাহা জানান, চেয়ারম্যান যেহেতু কাস্টডিতে আছেন, উনি পদত্যাগ করেননি। ওঁকে ধরা যাবে না। এসডিও সাহেব অ্যাপয়েন্টিং অথরিটি, তাঁকে আমরা পদত্যাগপত্র ফরওয়ার্ড করেছি। উনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই হবে। কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করায় বোর্ড রইল না। তবে পুরসভার কোনো পরিষেবা বন্ধ নেই। যদি সেই রকম কোনো রিপোর্ট হয়ে থাকে আমাকে জানালে আমি সেইমতো পদক্ষেপ করব।