• জাহাঙ্গিরের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে আদালতে যাবে পুলিশ
    বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিষেক ঘনিষ্ঠ ফলতার স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে কেস রুজু করল ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কমাধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি একাধিক দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ। দুর্নীতির টাকায় যে বিপুল সম্পত্তি করেছেন তিনি, তা বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে আবেদন জানাবে জেলা পুলিশ। এদিকে, রবীন্দ্রনগর এলাকা থেকে জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ শেখ রামজান ওরফে বাবুকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র। সেভেন এমএম ও ছোটো আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও মিলেছে ৩১টি কার্তুজ, মাদক সহ বিভিন্ন সামগ্রী।

    জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রীর নামে ২০০ বিঘা জমির সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে ডায়মন্ডহারবার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ৬৪টি জমির দলিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই জমিগুলি জোর করে দখল করেছিলেন জাহাঙ্গির। এরপর প্রভাব খাটিয়ে রেকর্ড বদল করেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা জেনেছেন, নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, বাংলো ও ব্যবসা রয়েছে জাহাঙ্গিরের। এমনকি, রিয়েল এস্টেটেও টাকা খাটছে তাঁর। এর বাইরে একাধিক শেয়ার, এফডি রয়েছে। অন্যের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন স্কিমে টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এই বিপুল টাকা তিনি কোথা থেকে পেলেন, তা জানতে  জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের কপি সংগ্রহ করেন অফিসাররা। তা ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে তিনি যে রোজগার করতেন, তা দিয়ে এই বিপুল সম্পত্তি কেনা সম্ভব নয়। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার আগে তিনি কোনো সরকারি কর্তা ছিলেন না বা কোনো বড়ো জায়গায় চাকরিও করেননি। দরজির কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রীও কোথাও চাকরি করেননি। তাই জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রী যে সম্পত্তি করেছেন, তা আয় বহির্ভূত বলেই দাবি তদন্তকারীদের। ফলতার ‘পুষ্পা’ এই টাকা তোলাবাজি করেই জোগাড় করেছেন বলে অভিযোগ। সেকারণে এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে। অনুমতি মিললেই দ্রুত এই কাজ শুরু হবে। বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি যে বৈধ টাকায় কেনা, তা প্রমাণ করতে পারলে তবেই তা ফেরত পাবেন জাহাঙ্গির। তা না হলে সেগুলি নিলামের পথে হাঁটবে ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)