পোস্তায় ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪, বাজার চালু রাখার সিদ্ধান্ত
বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পোস্তা বাজারে ব্যবসায়ীকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করল জোড়াবাগান থানার পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন মহিলা। তাঁদের বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি, ভয় দেখানো, অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পর আপাতত বাজার বন্ধ রাখার পথে যাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। পোস্তা বাজার ব্যবসায়ী সংগঠনের অফিসে ঢুকে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। ডিম ছোড়া, মারধর এবং গালিগালাজের অভিযোগ ওঠে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।। এই ঘটনায় জোড়াবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ, পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে বৈঠক চলছিল ওই দিন দুপুরে। অভিযোগ, বেলা ২টো নাগাদ সেখানে আচমকাই ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ঢুকে পড়ে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ আগরওয়ালকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করে তারা। সঙ্গে চলে চড়-থাপ্পড় ও গালিগালাজ। আচমকা এই হামলার ঘটনায় হতচকিত হয়ে যান সকলেই। ঘটনার প্রতিবাদে সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত পর্যন্ত ধরনাও চলে সংগঠনের অফিসে। ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজার বন্ধের দিকে যাবেন কি না, তার সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার সংগঠনের পরিচালন সমিতির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এদিন বিশ্বনাথ আগরওয়াল বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা আমাদের অনুরোধ করেছে, আমরা যেন ধর্মঘট বা কর্মবিরতিতে না যাই। কারণ, এতে পূর্ব ভারতজুড়ে ব্যবসায়িক সংকট তৈরি হতে পারে। সরকারের অনুরোধে আপাতত পোস্তা বাজার সচল রাখছি।’
‘ফ্রেন্ডস অব বিজেপি’ নামে একটি সংগঠন পোস্তা বাজারের ঘটনা এবং তাকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মনমোহন অঞ্জুমন গাড়োদিয়া বলেন, ‘হিংসা বা অপরাধে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’ পাশাপাশি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ব্যবহার করা হলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি। কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনসের সভাপতি সুশীল পোদ্দার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতার কারণে অভিযুক্তদের এত দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই পুলিশি সক্রিয়তা ব্যবসায়ীদের আস্থা দৃঢ় করেছে।’