• ২১ জুলাই মামলা খোলার দাবি নিয়ে কাকলির চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে, ১৩ জন শহিদের পরিবার বিচার পায়নি ৩৩ বছরেও
    বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের কলকাতার পুলিশের ‘গুলি-কাণ্ড’ নিয়ে মুখ খুললেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ তথা অধুনা এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেদিনের ঘটনার নতুন করে তদন্তর পাশাপাশি কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ ও দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন সাংসদ। তিন পাতার চিঠিতে কাকলি দাবি করেছেন, ৩৩ বছরেও ১৩ জন নিহত (শহিদ) যুব কংগ্রেস কর্মীর পরিবার বিচার পায়নি। চিঠিতে লেখা, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কলকাতার এসপ্ল্যানেডে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় অনেকে জখমও হন। তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। 

    কাকলির অভিযোগ, ঘটনার পরে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা হয়। বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট উল্লেখসহ কাকলির দাবি, কমিশন গুলি চালনাকে ‘বিনা উসকানি, অসাংবিধানিক ও অপ্রয়োজনীয়’ বলে মন্তব্য করেছিল। পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। গোটা ঘটনাটিতে সংবিধানের ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে কমিশনের তরফে দাবি করা হয়। সে-কথা চিঠিতে লিখেছেন কাকলি। আর তাতে তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সিপিএম নেতা বিমান বসু এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মনীশ গুপ্তের নামেরও উল্লেখ রয়েছে। 

    কাকলি বলেন, কমিশনের সুপারিশ সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং মণীশ গুপ্তকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে মন্ত্রী করা হয়। পরে রাজ্যসভার সদস্যও করেছিল তাঁকে তৃণমূল। ওইসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও চিঠিতে নিশানা করেছেন কাকলি। তাঁর দাবি, ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে ২১ জুলাইয়ের শহিদদের বিচার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা পূরণ হয়নি। নতুন করে খোলাও হয়নি মামলাটি। কমিশনের রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়নি। 

    লালবাজার এবং রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কাকলি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৬টি দাবি জানিয়েছেন তিনি। সেগুলি হল—মামলাটি পুনরায় খোলা, চিহ্নিত দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা, কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ, অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ফরেনসিক পুনর্তদন্ত এবং কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন প্রদান। চিঠির শেষে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না-হলে ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগ আরো জোরালো হবে। শহিদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)