শুধু স্বপ্ন দেখা নয়, দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল! ভোজিনহাদের সাফল্যের রহস্য ফাঁস কেপ ভার্দের কর্তার
প্রতিদিন | ০৪ জুলাই ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপে কে জিতবে, তা সময় বলবে। তবে একটা কথা এখনই বলে দেওয়া যায়। কেপ ভার্দের এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীরা চিরকাল মনে রাখবেন। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ছেড়ে কথা বলেনি ‘ব্লু শার্কস’রা। ২-৩ গোলে হেরেছে ঠিকই। তবে মন জিতে নিয়েছে। কিন্তু এই ‘সাফল্য’ আচমকা নয়। পিছনে দীর্ঘ প্রস্তুতি আছে। মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষের পর সংবাদ প্রতিদিনকে সেই নেপথ্য কাহিনি শোনালেন কেপ ভার্দে ফুটবল সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ব্যারোস। সঙ্গে ছিলেন ভোজিনহাদের জার্সি প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্মকর্তা ড্যানিয়েল।
দু’জনেরই মনখারাপ। আর্জেন্টিনাকে হারানোর সুযোগ হাতছাড়া হল। আবার, গোটা দুনিয়ার কাছে নিজেদের ফুটবল পরিচিতি তৈরি করতে পেরে খুশি। স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে জন বলছিলেন, “আমরা বহুদিন এর পিছনে খাটছি। আজ যেটা হল সেটা স্বপ্ন নয়, বাস্তব। বহু মানুষ এর জন্য দিনরাত এক করে খেটেছে।” কিন্তু এই দলটার প্রায় সবাই তো দেশের বাইরে খেলেন। অনেকের জন্ম-কর্ম দেশের বাইরে। কীভাবে এঁরা এত একজোট হয়ে খেললেন? জন সোজা হাত দিয়ে দেখালেন স্যুটের বুকের দিকে। ক্রেস্টে কেপ ভার্দের লোগো। অর্থাৎ ভিটেমাটির টান। সংযোজন করে যান, “আমাদের দেশটা ছোট, কিন্তু হৃদয় বড়। সবাই দেশের সম্মানরক্ষার জন্য খেলেছে।”
অন্যদিকে ড্যানিয়েলের সংস্থা গত ৬ বছর ধরে কেপ ভার্দেকে স্পনসর করে আসছে। ৬ বছর আগে কে জানত, এই দল বিশ্বকাপ খেলবে। স্পেন-উরুগুয়েকে আটকে দেবে। আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত নিয়ে যাবে। সেই ‘দুঃসময়ের সঙ্গী’ ড্যানিয়েল বলেন, “আর্জেন্টিনা বিশ্বজয়ী দল। সেখানে কেপ ভার্দেকে অনেকেই পাত্তা দেননি। আমি এই দলের জন্য গর্বিত।”
দেখা হল কেপ ভার্দের এক মহিলা ভক্তের সঙ্গে। আনন্দে পাগলপারা। কেন জেতা হল না? কিছুতেই আফসোস যাচ্ছিল না। ঠিক কী করলে ভোজিনহারা জিততে পারতেন? ওই মহিলা ভক্ত কিন্তু মেনে নিলেন যে এটাই ফুটবল, এটাই জীবন। হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর যেতে পারবে সাড়ে ৫ লক্ষ জনতার দেশ। আশায় গোটা ফুটবল দুনিয়াও।