• বিশ্বকাপের মাঝে বিতর্ক, ৮ প্লেয়ারের শরীরে মিলল নিষিদ্ধ পদার্থ
    এই সময় | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • বিশ্বকাপের অংশ নেওয়া আটজন প্লেয়ারের শরীর নিষিদ্ধ পদার্থ মিলল। চলতি বিশ্বকাপে প্রতিটা দলের প্লেয়ারের ডোপ পরীক্ষা হয়েছে। সেখানে তিউনিসিয়ার জাতীয় দলের আট ফুটবলারের শরীরে নিষিদ্ধ পদার্থ ক্লেনবিউটেরল (Clenbuterol)-এর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটি ইচ্ছাকৃত ডোপিং নয় বলে মনে করায়, আপাতত কোনো ফুটবলারকে সাময়িক বরখাস্ত বা শাস্তি দেওয়া হয়নি।

    দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি ফুটবলারকে যেকোনও সময় ডোপ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। সেই পরীক্ষাতেই তিউনিসিয়ার আটজন খেলোয়াড়ের নমুনায় ক্লেনবিউটেরল ধরা পড়ে।

    বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থার (WADA) নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা এই ওষুধটি মূলত হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও এটি শরীরের চর্বি কমিয়ে পেশির গঠন উন্নত করতেও সাহায্য করে। সেই কারণেই ক্রীড়াঙ্গনে এটি নিষিদ্ধ।

    তবে তদন্তকারীদের ধারণা, তিউনিসিয়ার ফুটবলারদের শরীরে এই পদার্থ প্রবেশ করেছে মাংস খাওয়ার মাধ্যমে। বিশ্বকাপ চলাকালীন তিউনিসিয়া দলের বেস ক্যাম্প ছিল মেক্সিকোর মনতেরেতে। সেখানে গবাদিপশুর খাদ্যে ক্লেনবিউটেরল ব্যবহারের অভিযোগ বহুদিনের। পশুর শরীরে চর্বি কমিয়ে মাংসের গুণগত মান বাড়াতে কিছু খামারে এই ওষুধ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এই কারণেই কর্তৃপক্ষ আপাতত ঘটনাটিকে সরাসরি ডোপিং হিসেবে দেখছে না। বদলে খাদ্যদূষণ বলেই বর্ণনা করছে। এই কারণের জন্যই সংশ্লিষ্ট আট ফুটবলারের নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

    এর আগে ২০১৮ সালে মেক্সিকোর তারকা বক্সার সাউল 'ক্যানেলো' আলভারেজের শরীরে ক্লেনবিউটেরল পাওয়া যায়। সেই সময়ে তাঁকে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরে তিনি দাবি করেন, মেক্সিকোয় গোরুর দূষিত মাংস খাওয়ার কারণেই তাঁর শরীরে ওই পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল।

    এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০১১ সালে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ডোপ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০৮ জন ফুটবলারের মধ্যে ১০৯ জনের শরীরেও ক্লেনবিউটেরলের উপস্থিতি মিলেছিল। সেই সময়ও তদন্তে দূষিত মাংসকেই দায়ী করা হয় এবং কোনও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    তিউনিসিয়া এবার বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে। গ্রুপ পর্বে সুইডেন, জাপান ও নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে গ্রুপের তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে আফ্রিকার দেশটি। প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারের পর প্রধান কোচ সাবরি লামুশিকে বরখাস্ত করে তাঁর জায়গায় হার্ভে রেনার্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য বদলাতে পারেনি তিউনিসিয়া।
  • Link to this news (এই সময়)