• রামমন্দিরের পরে এ বার বদ্রীনাথ! প্রণামী চুরির অভিযোগ, উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ
    এই সময় | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • অযোধ্যার রামমন্দিরের পরে এ বার উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ মন্দিরে প্রণামীর টাকা চুরির অভিযোগ। স্বেচ্ছাসেবী এক সংস্থার তরফে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করা হয়েছে। তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে মন্দির পরিচালনকারী সংস্থা ‘বদ্রী কেদার টেম্পল কমিটি’ (BKTC)। ঘটনায় কমিটির পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বদ্রীনাথ, কেদারনাথ-সহ গাড়োয়ালের অধীনে থাকা মোট ৪৯টি মন্দিরের দান সামগ্রী দেখভালের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ। এ নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।

    স্বেচ্ছাসেবী এক সংস্থা বদ্রী কেদার টেম্পল কমিটির কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙ্গারকে শুক্রবার একটি চিঠি পাঠায়। সেই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর ব্যক্তিগত সচিব বদ্রীনাথ মন্দিরের প্রণামীর টাকা চুরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আরও অভিযোগ, অনিয়মের বিষয়টি তাঁরা আগেই চেয়ারম্যানের নজরে এনেছিলেন। কিন্তু মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান বিষয়টিতে বিশেষ আমল দেননি বলে অভিযোগ। বর্তমানে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার জন্য কমিটির কাছে দাবি জানিয়েছে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

    অভিযোগ পাওয়ার পরেই মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যে কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তিনি হেমন্তর ব্যক্তিগত সচিব নন। তিনি বদ্রীনাথ-কেদারনাথ টেম্পল কমিটির একজন স্থায়ী কর্মী। অভিযুক্ত ওই কর্মচারী এর আগে মন্দির কমিটির তিনজন চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। হেমন্ত আরও জানিয়েছেন, তদন্তে প্রণামী চুরির অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ওই কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    BKTC কমিটির কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙ্গার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরেই বদ্রীনাথ মন্দির চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সেই সব ফুটেজ খুব একটা পরিষ্কার বা স্পষ্ট নয়। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন কর্মচারীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই লিখিত চাওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তারা সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। তদন্তে কোনও কারচুপি প্রমাণিত হলে ১৯৩৯ সালের বদ্রীনাথ-কেদারনাথ টেম্পল কমিটি আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

    সোহন আরও জানিয়েছেন, চলতি মরশুমের চারধাম যাত্রার শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দিরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে জমা পড়েছে। এ ছাড়া মন্দির কমিটির নিজস্ব গেস্ট হাউস থেকেও ভালো আয় হয়েছে চলতি মরশুমে। সূত্রের খবর, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে প্রতি বছর গড়ে ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান আসে এই মন্দিরগুলিতে। তবে এত বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাঝে চুরির অভিযোগ মন্দিরের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

  • Link to this news (এই সময়)