আজকাল ওয়েবডেস্ক: অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনার আর্থিক সহায়তা অ্যাকাউন্টে না পৌঁছনোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মেখলিগঞ্জ পুরসভা। ক্ষোভে ফেটে পড়া উপভোক্তাদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনী। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হয় পুলিশকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বহু মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে পুরসভায় আসেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন আগে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর দফতরে যান তাঁরা।
অভিযোগ, আলোচনার মাঝেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন চেয়ারম্যান ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আন্দোলনকারী দীপক বর্মনের দাবি, বহু উপভোক্তার আবেদনপত্র জমা পড়লেও পুরসভার তরফে প্রয়োজনীয় ডাটা এন্ট্রি করা হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘মা-বোনেরা ফর্ম পূরণ করেছেন, কিন্তু এখনও টাকা পাননি। পুরসভায় এসে জানতে পারি, বিশেষ করে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০ থেকে ১৫০ জনের তথ্য আপডেট হয়নি। চেয়ারম্যান সোমবারের মধ্যে সমস্ত ডাটা এন্ট্রি সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তা না হলে মঙ্গলবার আবারও আন্দোলনে নামব।’’
আর এক আন্দোলনকারী দীপা সিংও একই সুরে বলেন, ‘‘সোমবারের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে মঙ্গলবার ফের পুরসভায় আসব।’’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনী। তাঁর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাওয়া বা না পাওয়ার সঙ্গে পুরসভার চেয়ারম্যানের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘‘মহিলারা এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে মহকুমা শাসকের কথাও বলিয়ে দিয়েছি। তারপর একদল দুষ্কৃতী এসে নতুন সংস্কৃতি হিসেবে ‘ডিম থেরাপি’ চালু করল। মনে হচ্ছে, গোটা বিষয়টি পরিকল্পিত।’’
ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপির মেখলিগঞ্জ শহর মণ্ডল কমিটির সভাপতি আশেকার রহমানও প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘শুধু মেখলিগঞ্জ নয়, বিভিন্ন পুরসভাতেই একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এক মাস সময় পেয়েও এখানে প্রায় ১,৪০০টি আবেদনপত্রের ফিল্ড ভেরিফিকেশন ও ডাটা এন্ট্রির কাজ শেষ হয়নি। সেই কারণেই সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।’’
বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক হলেও সোমবারের মধ্যে পুরসভা সমস্যার সমাধান করতে পারে কি না, সেদিকেই নজর উপভোক্তাদের। সমাধান না হলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।