• সেবাশ্রয়ে লিঙ্গ নির্ধারণ ইউএসজি মেশিনে!
    আজকাল | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • গোপাল সাহা

    তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির ডায়মন্ড হারবার মডেল এবং তাঁর সেবাশ্রয় নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। এবার সেবাশ্রয় ক্যাম্পে লিঙ্গ নির্ধারণের মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বেশ কিছু মানুষ এবং ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। এই নিয়ে তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করেন। 

    অভিজিতের অভিযোগ, বেআইনিভাবে ভ্রুণ হত্যা রোধে কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন করে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে জনসাধারণের স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠতেই পারে— আইনের বাইরে গোপনে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মতো নিষিদ্ধ কার্যকলাপ ঘটেনি, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? এই কারণেই একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও ফরেনসিক তদন্ত অপরিহার্য। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে অভিষেক বা অন্য কেউ আইন লঙ্ঘন করেছেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সংগঠিতভাবে আইন ভঙ্গ প্রমাণিত হলে, সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। 

    বিজেপি নেতা অভিজিৎ আরও বলেন, “রেজিস্ট্রেশনে যে নির্দিষ্ট ঠিকানার উল্লেখ থাকে, মেশিনটি শুধুমাত্র সেখানেই রাখা যাবে। অনুমতি ছাড়া মেশিনটি অন্য কোনA ঘরে বা গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

    উল্লেখযোগ্য বিষয়, এক্স-রে মেশিন থেকে ক্ষতিকর আয়নাইজিং রেডিয়েশন (তেজস্ক্রিয় রশ্মি) বের হয়। তাই এটি পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের অধীনে পড়ে, যার লাইসেন্স আবশ্যক। অনুমতি এবং পরিচালনের লাইসেন্স ছাড়া কোনও এক্স-রে মেশিন কেনা, চালানো বা স্থানান্তর করা যায় না। পোর্টেবল বা মোবাইল ইউএসজি মেশিন সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া যায় না, কারণ এতে অবৈধভাবে লিঙ্গ নির্ধারণের ঝুঁকি বাড়ে। আর এই অপরাধমূলক কাজই সংঘটিত হয়েছে অভিষেক ব্যানার্জির সেবাশ্রয়ে বলি অভিযোগ অভিজিতের।

    আজকাল ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যে স্বাস্থ্য দপ্তর অভিষেক ব্যানার্জির সেবাশ্রয়ের মত অপরাধমূলক ও বেআইনি কার্যকলাপের অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে ফাইল ওপেন করেছে। এই ব্যবস্থাপনায় কোন কোন জেলা আধিকারিক ও কোন কোন জেলা অফিসার ছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হবে। তাঁদের থেকেই তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। কোন কোন জায়গা থেকে ইউএসজি মেশিন, এক্সরে মেশিন, রেডিওলজি মেশিন কিংবা চিকিৎসার সরঞ্জাম কার নির্দেশে বা আদেশে কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং তার কি লাইসেন্স রয়েছে। এমনকি যাঁরা নিয়ে এসেছিল তাঁদের সেই মেশিনারী বা ইন্সট্রুমেন্ট অপারেট করার অনুমতি বা লাইসেন্স আছে কিনা। একই সঙ্গে এই সকল মেশিনারী হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, যে কোনও মেডিকেল ক্যাম্পে অন্য সকল সব কিছু থাকলেও ইউএসজি মেশিন দেখবেন না কোন মেডিকেল ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা রয়েছে। কারণ এইভাবে চাইলেই ইউএসজি মেশিন হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাওয়া যায় না। কারণ এটি ক্রিমিনাল অফেন্স। কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তার অনুমতি সঠিকভাবে নেওয়া হয়েছিল কিনা সবটা খতিয়ে দেখা হবে।”

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “অনুসন্ধানকারী কমিটি গঠন করা হয়েছে, গতকাল থেকে ফাইল ওপেন করার কাজ শুরু হয়েছে। তথ্য আমরা সমস্ত উদ্ঘাটন করে যথাযথ জায়গায় পাঠিয়ে দেব এবং পুলিশের কাছেও যা যা তথ্য দেওয়ার পাঠিয়ে দেব। আইনত যাতে সঠিক ব্যবস্থা পুলিশ নিতে পারে সেই ব্যবস্থাই করব। আর এই তদন্ত কমপ্লিট করতে সাত দিন সময় লাগবে আশা করছি। আমাদের সাত দিন সময় দিন। সাংবাদিক বন্ধুদের অনুরোধ করব তারা যেন যথাযথ তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করে তাহলে খুব উপকৃত হব। এমনকি এই সেবাশ্রয় সংক্রান্ত আমরা যা যা তথ্য এখনও পর্যন্ত পেয়েছি তাতে প্রশ্ন উঠছে, ইউএজি মেশিন ও রেডিওলজি মেশিন বিনা লাইসেন্স এ কীভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়া হল! এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সব তথ্য ঠিকমতো সংগ্রহ করছি। সবকিছু ঠিকমত জোগাড় হলে, এই অপরাধেই অভিষেক ব্যানার্জি 'শ্রীঘরে' থাকবেন। আর কিছু লাগবে না।”
  • Link to this news (আজকাল)