• ন্যায়ের খোঁজে ১৪ বছরের অপেক্ষা, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ বরুণ বিশ্বাসের দাদা-দিদি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ বছর আগে, ২০১২ সালের ৫ জুলাই। গোবরডাঙা স্টেশন চত্বরে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয়। সেই ঘটনার এত বছর পরও বিচার না মেলায়, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ এসে নতুন করে তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের আবেদন জানালেন বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস ও দিদি প্রমিলা রায় বিশ্বাস।

    সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘জনতার দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কথা হয়। পরিবারের বক্তব্য মন দিয়ে সব কথা শোনেন মুখ্যমন্ত্রী এবং নির্দিষ্ট একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে গোটা ঘটনার নতুন করে তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানান বরুণ বিশ্বাসের দাদা। দীর্ঘদিনের হতাশার পর এই আশ্বাসে আশার আলো দেখছেন তাঁরা।

    পরিবারের অভিযোগ, বরুণ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম উঠে এসেছিল। তাঁদের দাবি, তাঁর নেতৃত্বেই ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে বরুণ বিশ্বাসকে খুন করে। যদিও ঘটনায় ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছিল, পরিবারের অভিযোগ—প্রকৃত দোষীদের অনেকেই আইনের আওতার বাইরে থেকে গিয়েছে। তাই এতদিনের তদন্তকে তাঁরা ‘প্রহসন’ বলেই মনে করেন।

    অসিত বিশ্বাসের অভিযোগ, গত ১৪ বছরে ভবানী ভবন থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তার—বিচারের আশায় একাধিক দরজায় কড়া নাড়লেও কোনও সুরাহা মেলেনি। বরং বারবার হুমকি, ভয় দেখানো এবং চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি মামলার আইনজীবীকেও বিভিন্নভাবে চাপে রাখা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর কথায়, টআমাদের আইনজীবীকেও এমনভাবে কোণঠাসা করা হয়েছিল যে তিনি ঠিকমতো মামলাটা লড়তেই পারেননি।ট

    আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই শেষ মুহূর্তে এক গ্লাস জল চেয়েছিল। সেই জলটুকুও তাকে দেওয়া হয়নি। এতটাই নির্মম, এতটাই পৈশাচিক ছিল সেই ঘটনা।’ ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জনের মধ্যে একজনের জেলেই মৃত্যু হয়। বাকিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মামলাটি আদালতে ঝুলে রয়েছে।

    ঠিক বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুর বার্ষিকীর আগের দিন, ৪ জুলাই, তাঁর দাদা ও দিদির মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে উপস্থিতি যেন শুধুমাত্র একটি অভিযোগ জানানোর ঘটনা নয়—বরং ১৪ বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা একটি পরিবারের শেষ ভরসার প্রতিচ্ছবি। তাঁদের আশা, নতুন তদন্তের মাধ্যমে এবার সত্য সামনে আসবে এবং বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীরা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)