সৈকতশহর দিঘায় এবার ভক্তরাও জগন্নাথদেবের রথের রশিতে টান দিতে পারবেন। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবী তিনটি রথে চড়ে মাসির বাড়ি রওনা দেবেন। সেখানেই সাতদিন ধরে চলবে পূজার্চনা। প্রসাদ বিতরণ। উল্টো রথের দিন ফের মাসির বাড়ি থেকে ভাই-বোনকে নিয়ে মন্দিরে ফিরবেন জগন্নাথ দেব। গত বছর রথের রশি টেনেছিলেন কেবল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠ অতিথিরা। রথের রশি টানার জন্যে রাখা হয়েছিল সাদা পোশাকের সিভিক ভলান্টিয়ার। কিন্তু সাধারণ ভক্তরা সেই রশি টানতে না পেরে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এবার যাতে সাধারণ মানুষও রথের রশিতে টান দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রায়। এমনই খবর প্রশাসনিক সূত্রে।
গত ২৯ জুন দিঘার মন্দিরের ভিতরে একটি অস্থায়ী বেদি তৈরি করে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে রথযাত্রার প্রস্তুতি। রথের সংস্কার এবং মহড়ার মধ্য দিয়ে তার কাঠামো দেখে নিতে চাইছেন দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্তারা। পুরীর মতো দিঘায় প্রতি বছর রথ নির্মাণ বা সংস্কার হয় না। তবে এবছর তিনটে রথ নতুন করে রং করা হয়েছে। আপাতত ওই তিনটি রথ মূল মন্দিরের উত্তর দিকে রাখা থাকে।
ইতিমধ্যে তিনটি রথকে পরীক্ষামূলকভাবে মাসির বাড়ি পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার মহড়া শুরু হয়েছে। গত বছর রথযাত্রার অনুষ্ঠানে ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’র অভিযোগ উঠেছিল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এবারের অনুষ্ঠানকে যাতে সেই সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করা যায়, সেই ব্যাপারেই বেশি সচেষ্ট রয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। রথযাত্রার সময়ে অনেক পর্যটক দিঘায় আসেন। তাঁদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ও রথযাত্রার সময় উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করা যায়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত ভক্তদের যাতে রথযাত্রায় অংশগ্রহণে কোনও অসুবিধে না হয়, তার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত।” রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, “আগে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ভক্তদের কাছে ভিড়তে দেওয়া হয়নি। এমনকী, রথের রশিতে হাত পর্যন্ত দিতে দেওয়া হয়নি। আমরা চাইছি, সেই সংস্কৃতি ভেঙে সকলে যাতে রথের রশি স্পর্শ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে।”