বছর ছিয়াশির দেবকুমার দাশগুপ্ত বহু পরিচিতের সাহায্য় নিয়ে একটি জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। অভিযোগ, গত ২০২২ সাল থেকে মন্দিরের প্রতি নাকি নজর পড়ে দেবরাজ ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের। তারপর থেকে কখনও ৫ লক্ষ, কখনও ৮ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করতেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, জগন্নাথ মন্দিরের দানপাত্রও লুট করেছিলেন। এভাবে নাকি মোট ২৬ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করেছিলেন দেবরাজ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে গত ২০২৩ সালে সাধের জগন্নাথ মন্দিরটি ৭ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে বাধ্য হন অশীতিপর বৃদ্ধ। তারপর থেকে শয্যাশায়ী দেবকুমারবাবু। দেবরাজের যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা বেআইনি অর্থের উৎস সন্ধানে তৎপর তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দেবরাজের অ্যাকাউন্টে বিশেষ টাকা নেই। তবে ভোটের আগে গত মে মাসে ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। কোথা থেকে ওই টাকা আসে, কোথায় বা খরচ হয় তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে দেবরাজ চক্রবর্তী। তদন্তকারী সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত থেকে টানা প্রায় ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। বিপুল পরিমাণ ‘কালো’ টাকার লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যের খোঁজে তাঁকে জেরা করা হয় বলেই খবর। তদন্তকারীদের দাবি, একা দেবরাজ নন। আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যোগ রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক প্রভাবশালীর। আগামিদিনে তদন্তে আরও নানা তথ্য সামনে আসবে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।