গোপাল সাহা: গ্রামবাংলায় 'স্টোনম্যান'-এর সন্ত্রাস। নদীয়া জেলার রানাঘাটে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ির মহিলাদের উপর আক্রমণের অভিযোগ। মূলত ঘটনাগুলি ঘটছে প্রায় মধ্যরাতে। ৫৫ বা ষাটোধ্ব মহিলা যাঁরা একাই থাকেন, তাঁদের বাড়িতে কখনও জানলার গ্রিল কেটে বা অন্য কোনও চোরাপথে বাড়িতে ঢুকে প্রাণঘাতি হামলা চালানো হচ্ছে। তবে হামলাকারী দুষ্কৃতী কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনায় জড়িতের সংখ্যা একাধিক, সে নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।
সূত্রের খবর, শুক্রবার মধ্যরাতে রানাঘাটের পায়রাডাঙ্গায় একটি ঘটনা ঘটে। প্রাণঘাতী হামলা হয় এক বৃদ্ধা মহিলার উপর। নাম মনু বিশ্বাস, বয়স ৫৬ বছর। স্বামী সারদা বিশ্বাস কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তাঁর ছেলে নিজের পরিবারকে নিয়ে আলাদা থাকেন। গতকাল আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টে থেকে ৪টে নাগাদ দুষ্কৃতীরা বাড়ির টিনের অংশ কেটে ঘরে ঢুকে মনু বিশ্বাসের ওপর হামলা করে। ইট দিয়ে তাঁর মুখে এবং মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত হন মনু। তবে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে থাকা টাকাপয়সা হাত দেয়নি হামলাকারীরা।
স্থানীয়দের দাবি, মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে এ ভাবেই মহিলাদের উপর হামলা করা হচ্ছে। মূলত যাঁরা বাড়িতে একা থাকেন, তাঁদের উপর এই হামলা করছে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু তেমনভাবে কোনও টাকাপয়সা নিয়ে যাচ্ছে না তাঁরা। তাই এই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রয়েছে বলেই জানিয়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।
মনু বিশ্বাসের ছেলে পঙ্কজ বলেন, "আমি মায়ের বাড়ির কাছেই থাকি। মা একা থাকার কারণেই এরকম হামলার ঘটনা ঘটে। আমি কাজ থেকে ফিরে সন্ধে ৬টা নাগাদ দেখি মায়ের উপর হামলা হয়েছে। তারপরই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে ভোররাতেই মাকে প্রতিবেশীরা স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। কলকাতা থেকে আমার মামাতো বোনও এসেছে। এরপর মাকে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। মায়ের মুখে ও মাথায় ভয়ঙ্কর আঘাত করা হয়েছে। জানিনা মাকে ফেরাতে পাব কিনা!"
পুলিশ সূত্রে খবর, আগেও রানাঘাটে এমন চার-পাঁচ জন মহিলার উপর হামলা হয়। গত দু'মাসের মধ্যে এই সমস্ত ঘটনা ঘটে। তাঁরা বর্তমানে প্রত্যেকেই চিকিৎসাধীন। এই ঘটনা মাঝে তিন-চার মাস বন্ধ ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে কতজন যুক্ত তা নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ।