মিল্টন সেন, হুগলি: মানুষের প্রয়োজনের কথা কেউ ভাবেনি। সরকারি টাকার অপব্যবহার হয়েছে। মূল্যহীন ভুলভাল কাজ করা হয়েছে। আগের সরকার ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করত। কার্যত সেগুলি অকাজ হয়েছে। সপ্তগ্রামের জিটি রোড সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া বিশাল এলাকা জুড়ে কৃষক বাজার প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন সপ্তগ্রামের বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ।
এদিন তিনি বলেছেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে আগের সরকার জিটি রোডের পাশে নির্জন জায়গায় কৃষক বাজার বানিয়েছিল। কী কারণে? কেন ওখানে বাজার হবে? ইত্যাদি কোনও বিষয় নিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। দ্রুত তৈরি করে ফেলা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিত্যক্ত ওই কৃষক বাজার দুষ্কৃতীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেও ওই কৃষক বাজারে রমরমিয়ে মদ গাঁজার ঠেক চলত। পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল।
শনিবার এক বৈঠকে সপ্তগ্রাম বিধানসভা এলাকা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ। হাতে নিয়েছেন একাধিক উন্নয়নমুলক প্রকল্প। কৃষকদের সুবিদার্থে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য মাল্টি পারপাস কোল্ড স্টোর তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে কৃষকরা আলুর পাশাপাশি সব রকমের সবজি সংরক্ষণের সুবিধে পাবেন।
বিধানসভা এলাকার মহানাদ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হবে মহাবিদ্যালয়। বিধায়ক মনে করেন, তাঁর বিশাল বিধানসভা এলাকার একাংশে মহাবিদ্যালয়ের সুবিধে না থাকায় পড়ুয়াদের কিছুটা হলেও সমস্যায় পড়তে হয়। মহাবিদ্যালয় হলে ধনেখালি, পাণ্ডুয়া সহ সপ্তগ্রাম বিধানসভা এলাকার গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়ারা উপকৃত হবেন।
তাছাড়া হারিট এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, একটি হাসপাতাল। স্বরাজ বলেছেন, হারিট এলাকায় একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হবে। প্রস্তাবিত হাসপতালের মাত্র ছয় কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে জাতীয় সড়ক। একদিকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে। অপরদিকে রয়েছে দিল্লি রোড। ফলত দুর্ঘটনার সময় অনেক ক্ষেত্রেই বেশ অনেকটাই দূরে হলেও মানুষকে চুঁচুড়া জেলা হাসপাতাল অথবা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। তাই হারিট সংলগ্ন এলাকায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হবে। উপকৃত হবেন তারকেশ্বর, হরিপাল, ধনেখালি, পোলবা, সিঙ্গুর, দাদপুর সহ একাধিক অঞ্চলের বাসিন্দারা।
এছাড়াও সাধারণ মানুষের জন্য প্রত্যেক পঞ্চায়েত এলাকায় থাকা বাজারে বসবে জলছত্র এবং সুলভ শৌচালয়। স্বরাজ বলেন, তাঁর বিধানসভা এলাকায় একটিও খেলার উপযুক্ত স্টেডিয়াম নেই। এটা তাঁর বিধানসভা এলাকায় থাকা খেলোয়াড়দের বহুদিনের দাবি। তাই তিনি মগড়া বাঘাটি কলেজ ময়দানে স্টেডিয়াম তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি ত্রিবেণী কুম্ভ মেলাকে আরও বেশি করে মানুষের দরবারে পৌঁছে দিতেও উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। বলেছেন, ঘাট সংস্কার এবং পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নবামি গঙ্গা প্রকল্পের অন্তর্গত এই উদ্যোগে ত্রিবেণী সহ সংলগ্ন এলাকাকে একটা সম্পূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রের রূপ দেওয়া হবে। গঙ্গার ঘাট সংস্কার করা হবে। সেখানে নিয়মিত হবে গঙ্গা আরতি। এছাড়া বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এলাকায় জল নিকাশি নিয়ে নানান অভিযোগ রয়েছে। তাই নিকাশি ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহর সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি হবে রাস্তাঘাট সহ যাবতীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের যাবতীয় কাজ। যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উদ্যোগী বিধায়ক এদিন প্রস্তাবিত সমস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন।
বিধায়ক আরও বলেছেন, এবার মানুষ কার্যত ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কিত কাজের গতি অনুভব করবেন। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা মানুষ উপলব্ধি করছেন। তিনি আশাবাদী আগামী কিছুদিনের মধ্যেই পরিষেবা এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো নিয়ে মানুষের অভাব অভিযোগ আর থাকবে না। প্রকৃত উন্নয়নের স্বাদ পাবেন বাসিন্দারা।