• শুক্র সন্ধ্যায় কী ঘটেছিল তৃণমূল ভবনে?
    আজকাল | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দলের স্বস্ত নিয়ে বিস্তর টানাপোড়েন। এসবের মধ্যেই শুক্র সন্ধ্যায় বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপোলিটনে ধুন্ধুমার। তৃণমূল ভবনের দখল নিয়ে নেয় ঋতব্রত ব্যানার্জিদের 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠী। পরে ওই ভবনে তালাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। যা নিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। 

    শুক্রবার সন্ধ্যার ঘটনার জেরেই শনিবার কালীঘাটের অস্বস্তি বাড়ল। দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বারে বারে তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল ভবন দখল নিয়ে তাঁর প্রতি নেত্রীর বিশ্বাসভঙ্গ ও নেত্রীর 'আপত্তিকর' মন্তব্যের জেরেই তাঁর ইস্তফার সিদ্ধান্ত।

    শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়'টা নাগাদ ঋতব্রত ব্যানার্জি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন শিবিরের একাধিক বিধায়ক মেট্রোপোলিটন ইএম বাইপাসের তৃণমূল ভবনে পৌঁছন। ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, আখরুজ্জামানরা। সেখানে কিছুক্ষণ বৈঠক করেন তাঁরা। তারপর পার্টি অফিসের বাইরে নতুন দু'টি ব্যানারও টাঙানো হয়। একটি ব্যানারে মমতা ব্যানার্জির ছবি থাকলেও অপরটিতে তৃণমূলের চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়। 

    ঋতব্রতদের ভবন দখলের শুরুতে সেখানে হাজির ছিল কালীঘাটপন্তী তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। 

    মমতা ব্যানার্জি মনে করেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যোগ্য প্রতিবাদ না করাতেই দলের 'বিদ্রোহী'রা তৃণমূল ভবনের দখল নিতে পেরেছেন। সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে এ জন্য চন্দ্রিমার বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দেন দলনেত্রী।

    মমতার এহেন অভিযোগই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরই বিশ্বাসভাজনদের তালিকায় অন্যতম চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুক্রবারের ওই ঘটনার জেরে শনিবার দলের সব পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। অভিমান উগরে দেন মমতা ব্য়ানার্জির প্রতি। 

    চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, "নেত্রী বলেছেন আমি ভবন ঋতব্রতদের হাতে তুলে দিয়েছি। সেটা অত্যন্ত বেদনার। আমার বিশ্বাসযোগ্যতা, আনুগত্য প্রশ্নের মুখে। মনে হচ্ছে আমি অযোগ্য। ওরা তো আমার ঘরে ঢোকেনি। ফলে বাদা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। তাই সব কিছুর জন্য নিজেকেই দায়ী করছি। ফলে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। দলে অনেক বড় বড় নেতা আছেন, তারা এখন সব চালাবেন।"

    এরপরই নয়া মোড়। দেখা যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী ছেলে সৌরভ বসুকে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় যান। সোজা ঢুকে পড়েন বিরোধী দলনেতার ঘরে। সেকানে তখন হাজির ছিলেন তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' শিবিরের ঋতব্রত ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম-সহ আরও অনেকে। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে ছিলেন তিনি।

    পরে বিকেল ৩.৪০ নাগাদ বিধানভা থেকে বেরিয়ে যান চন্দ্রিমা দেবী। সাংবাদিকদের বলেন, "কালের নিয়মে সকলকেই চলে যেতে হয়।" 

    তাহলে কী তাঁর ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানো সময়ের অপেক্ষা? জবাবে চন্দ্রিমা বলেন, "এখানে কোথাও যাওয়ার বিষয় নয়। আমি বিধানসভায় এলে তো শাসক শিবিরের ঘরে নয়, বিরোধী দলের ঘরেই বসব।"

    পাশাপাশি নেত্রীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন প্রাক্তন মন্ত্রী! বলেন, "অনেকেই মনে করতে পারেন যে, আমি তৃণমূল শাসনকালে প্রভাবশালী ছিলাম। আসলে আমি নামেই ছিলাম মন্ত্রী। দপ্তরের কাজে আমার বিশেষ হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না। যেমন- বাজেট জনতা জানার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে আমি জানতে পারতাম। কে বা কারা সেটা লিখে দেন সেসব আমি বলব না। গোপনীয়তা বজায় রাখছি।"
  • Link to this news (আজকাল)