• 'বেইমান'দের নিশানা মমতার! কাদের 'নাম' করলেন?
    আজকাল | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবং দলের টালমাটাল অবস্থায় ফের সমাজমাধ্যমেই লাইভে এলেন মমতা ব্যানার্জি। এদিন লাইভের শুরুতেই তাঁর বক্তব্য, 'কয়েকদিন যাবৎ আপনারা লক্ষ করছেন, আমার দলের মুখপাত্ররাও বলেছেন, আমি এখন কম কথা বলি‌। আমি মনে করি, নীরবতাই আসল কথা বলে।' 

    লাইভের শুরুতেই তাঁর বক্তব্য, 'বিজেপি ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছে। এটা আমরা সবাই জানি। হাইজ্যাক করেছে কাউন্টিং সেন্টার। এমন সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা না থাকা সত্ত্বেও, আদালতের নির্দেশ না থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণের অভিযোগ এনে জেলবন্দি করা হচ্ছে।' 

    মমতার কথায়, 'যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জিতেছেন, আমার স্বাক্ষর করা প্রতীকে জিতেছেন, তাঁরা বলছেন, ২০২৩ সালের পর থেকে নাকি এই পার্টির কোনও অস্তিত্ব নেই। ২০২৭ সালে অক্টোবরে আবার আমাদের নির্বাচনের কথা। তাহলে ২০২৬ সালে কেন ভোটে দাঁড়ালেন? এই জোড়াফুল চিহ্নটা আমার দেওয়া। দলের নামটাও আমি দিয়েছিলাম, সই করে। দু'মাস হল না, দলের সঙ্গে বেইমানি করলেন। যে দলটা আপনাদের জন্মদাত্রী মা, তার সঙ্গে বেইমানি। আপনারা সরাসরি বিজেপি করছেন এখন। বিজেপি করবেন, আর তৃণমূল বলবেন, এটা তো হতে পারে না। তৃণমূল কংগ্রেসের আর্দশ বিজেপি বিরোধী।' 

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, 'যে বেইমানরা, গদ্দাররা বিজেপির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছেন, তাঁদের বলব, বুকের পাটা থাকলে বিজেপিতেই যোগদান করুন। বিজেপিতে থেকে দল ভাঙার চক্রান্ত, ভাবেন কি আমি মরে গিয়েছি? ভাবছেন আমাদের কর্মীরা মরে গিয়েছেন? আপনার পক্ষে সরকার আছে, তাই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে আপনি প্রতীক কেড়ে নিতে পারেন, তাতে কী যায় আসে। ভ্যানিশ কুমার যদি প্রতীক দিয়েও দেয়, সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছেন কিনা দেখুন। এই প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে যখন সাধারণ মানুষের সামনে যাব, আপনারা কি আমার কন্ঠরোধ করতে পারবেন? কন্ঠরোধ করতে গেলে, আপনাদের আমায় প্রাণে মেরে ফেলতে হবে‌। তার তো চেষ্টা কম করেননি। মহুয়াকে, অভিষেককে, কল্যাণকে আক্রমণ করেছেন‌। বাচ্চারা স্কুলে ডিম পায় না, আর আপনারা হাট্টিমাটিম টিম করে বেড়াচ্ছেন। বাংলার সংস্কৃতি এটা কখনোই ছিল না।'  

    মমতার বক্তব্য, 'বিজেপির নির্বাচনের পর উৎসব আর কতদিন চলবে? সন্ত্রাস কবে বন্ধ হবে? রাম মন্দির, প্রণামীর বাক্স, সব এদের সম্পদ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন ২ কোটি ৪৬ লক্ষ। প্রায় দেড় কোটি নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। মায়েরা হাহাকার করছেন। কাজ দেওয়ার ক্ষমতা নেই, কিল মারার গোঁসাই। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন, জীবিকা আপনারা কেড়ে নিয়েছেন। আমি যাঁদের চাকরি দিয়েছিলাম, আপনারা সেটা কেড়ে নিয়েছেন। এত প্রতিহিংসার রাজনীতি কেন?' 

    তিনি এও বলেন, 'আর গতকাল যারা তালা দিয়ে এলেন, ওটা ভাড়ায় ছিলাম আমরা। ভাড়াটা কতদিন পর্যন্ত ছিল? ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অফিসটা আমাদের নেওয়া ছিল। এটা দলের সম্পত্তি মাথায় রাখতে হবে।' 

    তিনি জানান, আজ থেকে সর্বভারতীয় এবং রাজ্য—দলের পুরো দায়িত্ব তিনি নিজে নিচ্ছেন এবং মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষকে দলের সাধারণ সম্পাদক করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না, আমরা ছিলাম, আছি, থাকব।” একই সঙ্গে ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা জানান, বিজেপি সরকার এখন বিরোধী কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে এবং আগস্ট মাস পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। 
  • Link to this news (আজকাল)