• তারাতলা বিপর্যয়, ধৃতদের ফের পুলিশ হেফাজত
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • তারাতলা বিপর্যয় কাণ্ডে ধৃতদের ফের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল আদালত। তারাতলা নির্মীয়মাণ গুদাম বিপর্যয়ের ঘটনায় ছয় জনকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলে  আলিপুর আদালতে ধৃতদের পেশ করা হয়। এদিন সরকারি আইনজীবী অভিযুক্তদের ফের পুলিশ হেফাজতের আর্জি জানান।

    আদালতে সরকারি আইনজীবী বলেন প্লান অনুমোদনের পর যেগুলি করার ছিল তা কিছু করা হয়নি। স্ট্রাকচারের নকশা জমা দেওয়া হয়নি। একাধিক ব‌্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একাধিক নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। এদিন বিচারক ৮ জুলাই পর্যন্ত অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

    এই ঘটনায় আগেই পদক্ষেপ নিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ওই মর্মান্তিক বিপর্যয় নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে কমিশন। ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি, নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের খতিয়ান চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    মানবাধিকার কমিশন তাদের নোটিশে রাজ্য প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে,  নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উত্তর দিতে হবে

    ১) দুর্ঘটনার পর পুলিশের এফআইআর এবং তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি কী?

    ২) নিহতদের পরিবার এবং আহত শ্রমিকদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কিনা?

    ৩) দোষীদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

    আজ পুলিশ লাইনের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে পড়েছিল। একাধিক শ্রমিক চাপা পড়লে তড়িঘড়ি সেনা এবং এনডিআরএফ পুলিশ এবং দমকলের সঙ্গে কাজ করায় ১৭ জনের প্রাণ বাঁচানো গিয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এই কাজ সম্ভব হয়েছে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার জন্য।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)