Explainer: অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পাননি? আবেদন বাতিল হলেও না ঘাবড়ে এখনই এটা করুন
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৫ জুলাই ২০২৬
অন্নপূর্ণা যোজনা বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Yojana) প্রকল্পের ৩০০০ টাকা নিয়ে বিভ্রান্তি ক্রমেই বাড়ছে রাজ্যে। বহু যোগ্য আবেদনকারী মহিলা এখনও টাকা পাননি, আবার অনেকের আবেদনই যাচাইয়ের সময় বাতিল হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নানা ভুয়ো তথ্যও ছড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনার মনেও যদি প্রশ্ন থাকে, টাকা কবে ঢুকবে বা আবেদন বাতিল হলে আর কোনও উপায় আছে কিনা, তা হলে গোটা বিষয়টি বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি।
রাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে, ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ নথি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অসঙ্গতি এবং অন্যান্য ত্রুটির কারণে। বাকি প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ আবেদনকারীকে যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ১ জুলাই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সে দিন দুপুর থেকেই প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে পাঠানো শুরু হয়। এর আগে জুনের গোড়ায় প্রথম কিস্তিতেও ২৮ লক্ষেরও বেশি মহিলা টাকা পেয়েছিলেন।
বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, সরকারে এলে তৃণমূল আমলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম বদলে অন্নপূর্ণা যোজনা করা হবে এবং ভাতা দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে। এত দিন সাধারণ প্রাপকরা পেতেন ১৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি-জনজাতির মহিলারা পেতেন ১৭০০ টাকা। ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে নতুন সরকার। তবে টাকার অঙ্ক বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় পুরনো তালিকার কড়া যাচাই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রায় ২ কোটি প্রাপক থাকলেও তার মধ্যে বহু অযোগ্য নাম ছিল। ভারতীয় নন এমন ব্যক্তি, এমনকি মৃত ভোটারের নামও প্রকল্পে ঢুকে গিয়েছিল বলে তাঁর দাবি। প্রায় ১০ লক্ষ পুরুষও ভুলবশত এত দিন এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, যে কারণেই এই যাচাই প্রক্রিয়া জরুরি হয়ে পড়ে।
সমস্যা হল, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন একসঙ্গে যাচাই করে টাকা পাঠাতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। যাঁদের আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন, তাঁরা সরকারি পোর্টালে স্টেটাস দেখতে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুধু আপনার আবেদন সফল ভাবে জমা হয়েছে গোছের একটি সাধারণ বার্তা দেখতে পাচ্ছেন, তার বেশি কোনও নির্দিষ্ট তথ্য মিলছে না। ফলে টাকা পাওয়া বা না পাওয়ার আসল কারণ বুঝতে না পেরে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, আর সেই ফাঁক গলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে নানা ভুল তথ্য।
আপনার আবেদন যদি ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে থাকে, তা হলে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতী রাভা রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভুল সংশোধন করে নতুন করে আবেদনের সুযোগ থাকছে। জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত অর্থাৎ মোট ৯০ দিন আবেদনের প্রক্রিয়া খোলা থাকবে। যাঁরা এখনও একেবারেই আবেদন করেননি, তাঁরাও এই সময়সীমার মধ্যে নতুন করে আবেদন জানাতে পারবেন। অর্থাৎ একবার আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়া মানেই চিরতরে প্রকল্পের বাইরে চলে যাওয়া নয়। সঠিক তথ্য ও নথি দিয়ে ফের আবেদন করলে পরবর্তী কিস্তিতে টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকছেই।
শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, দুর্গাপুজোর আগে রাজ্য সরকারের তরফে আরও কয়েকটি জনমুখী ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ১৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ শতাংশ করা হয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য ভরসা যুবসাথী কর্মসূচি নামে একটি প্রকল্পও চালু হচ্ছে। সব মিলিয়ে উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে রাজ্যের বহু পরিবারের হাতে বাড়তি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সরকার। তবে অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে স্টেটাস চেক করার সুনির্দিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থা এখনও চালু না হওয়ায়, প্রকৃত ছবিটা স্পষ্ট হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশ।