দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জগন্নাথ মন্দিরের দানপাত্র লুটের অভিযোগ বৃদ্ধের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৫ জুলাই ২০২৬
তোলাবাজি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ফের সামনে এল নতুন অভিযোগ। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটির একটি জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি এবং দানপাত্রের অর্থ লুটের অভিযোগ তুলেছেন ৮৬ বছরের দেবকুমার দাশগুপ্ত। অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে দেবরাজ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন। শুধু তাই নয়, মন্দিরের দানপাত্র থেকেও লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
দেবকুমার দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, বহু মানুষের সহযোগিতায় তিনি এলাকার জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে মন্দিরকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি শুরু হয়। কখনও পাঁচ লক্ষ, কখনও আট লক্ষ টাকা দাবি করা হতো, না দিলে নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, একাধিকবার মন্দিরের দানপাত্র থেকেও টাকা তুলে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেবকুমারবাবু। ক্রমাগত চাপ এবং আর্থিক ক্ষতির জেরে শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে তিনি সাত লক্ষ টাকায় নিজের প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ মন্দির বিক্রি করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের স্থায়ী আমানতের হদিশ না মিললেও ভোটের আগে গত মে মাসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ওই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন দেবরাজ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাতে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মূলত বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন, সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় শুধু একজন নন, আরও একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।