রাজ্যের ক্ষমতায় এসেই নিয়োগ পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও রাজনীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা ছিল, নিয়োগ কমিটির মাথায় কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না, কোনও পক্ষপাত হবে না। ইউপিএসসি-র ধাঁচে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হবে। যোগ্যতার সূক্ষ্ম মাপকাঠিতে হবে যাচাই। অসদুপায় কোনও অযোগ্য ব্যক্তির চাকরি হবে না, তা নিশ্চিত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল। স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হল দুঁদে আইপিএস, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচন চলাকালীন নারিয়ালাকে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
শনিবার সন্ধ্যায় সুখবর জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। আইএএস দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দায়িত্বে আনার খবর জানিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘রাজ্যবাসীর কাছে আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ছিল যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা হবে এবং নিয়োগ কমিশনগুলোকে রাজনীতিক সংস্পর্শ থেকে মুক্ত রেখে ইউপিএসসি (UPSC)-র মডেলের ধাঁচে ঢেলে সাজানো হবে।সেই মতো অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় যখন শূন্য পদে নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়, তখনই আমরা কথা দিয়েছিলাম যে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কমিটিতেই কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না। আমাদের সরকার সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্য পূরণে আজ আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBCSSC) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যের অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং বরিষ্ঠ আইএএস (IAS) আধিকারিক শ্রী দুষ্মন্ত নারিয়ালা (Shri Dushyant Nariala) কে কমিশনের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হলো।’
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, মেধা এবং যোগ্যতাই হবে চাকরি পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি। অতীতের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের আমলে যে অন্যায় হয়েছে বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে, তার কোনও স্থান এই নতুন পশ্চিমবঙ্গে নেই। যোগ্য মেধাবী চাকরি প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত করা এবং তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়াই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে এই প্রচেষ্টা জারি থাকবে। তৃণমূলের আমলে যেভাবে একের পর এক শিক্ষা, পুরসভা-সহ একাধিক সরকারি পদে নিয়োগের দুর্নীতি সামনে এসেছে, তাতে গোটা দেশের সামনেই মুখ পুড়েছিল বাংলার। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই দুর্নাম ঘুচিয়ে স্বচ্ছতা আনতে তৎপর শুভেন্দু অধিকারী সরকার।