কারখানার ভিতরেই ‘ডেঞ্জার জোন’! একসঙ্গে ৬৫, এদের ‘গোপন আস্তানা’ ফাঁস! একের পর এক সাপ উদ্ধার! ধূপগুড়িতে কি বাড়ছে বিষধর আতঙ্ক? বৃষ্টি আর তীব্র গরম এই দুইয়ের দাপটে যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সাপের উপদ্রব। একের পর এক উদ্ধার অভিযানের মাঝেই ফের চাঞ্চল্য ছড়াল শহরে।
এবার এক সুপারি প্রক্রিয়াকরণ কারখানা থেকে উদ্ধার হল দুটি পূর্ণবয়স্ক বিষধর গোখরো সাপ ও ৬৫টি ডিম, যা ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। ধূপগুড়ির ব্যবসায়ী অসীম সাহার কারখানায় কাজ করার সময় হঠাৎই সাপ দেখতে পান কর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় ধূপগুড়ি অ্যানিমেল লাভার্স সংস্থাকে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্পপ্রেমী ভজন সাহা ও অনিকেত চক্রবর্তী দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধার করেন দুটি বড় গোখরো এবং বিপুল সংখ্যক ডিম। পরে সাপগুলিকে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মতে, বর্ষার এই সময়ে জল জমা ও আশ্রয়ের খোঁজে সাপেরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। তবে একসঙ্গে এতগুলি ডিম উদ্ধার হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ এই ডিমগুলো ফুটলে এলাকায় সাপের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সর্প প্রেমী ভজন সাহা বলেন যদি সাপে কামড় দেয় তাহলে ঘাবড়াবেন না। যত সম্ভব তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসবেন রোগীকে তাহলেই রোগী বেঁচে যাবে, রোগীর মনে সাহস থাকতে হবে। বর্ষার সময় আসলে একটু সাপের উপত্যকা বেশি হয়! তাই যে কোন জায়গায় গর্ত অথবা জ্বালানি যেখানে রয়েছে সেই জায়গাগুলিতে হাত দেওয়ার আগে দেখে শুনে হাত দেবেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ধূপগুড়ির ঘোষপাড়ার একটি বাড়ি থেকে একটি বড় গোখরো ও ২৬টি বাচ্চা উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এমন উদ্ধার কার্যত আতঙ্ক বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সময়ে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, অন্ধকার ও আর্দ্র জায়গা এড়িয়ে চলা এবং সাপ দেখলে নিজে থেকে ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।