বেঙ্গালুরুর একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ক্যাম্পাসে অবস্থিত ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় এ বার নয়া মোড়। যে মহিলা কর্মী গোপনে ভিডিয়ো করে শিশুদের উপরে চলা নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তাঁকেই গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি সংবেদনশীল ভিডিয়ো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে আইন ভঙ্গ করেছেন।
এই ঘটনাটি কর্নাটকজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিয়োতে দেখা যায়, দুই থেকে তিন বছরের শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের মধ্যে বন্ধ করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কখনও বাচ্চারা কাঁদলেই চুপ করাতে জেট স্প্রে দিয়ে জল ছিটানো হচ্ছে, অথবা কাঁদলে বাথরুমে আটকে রাখা হচ্ছে। ভিডিয়োগুলি প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে ওঠেন সকলে। ডে-কেয়ার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিয়োগুলি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ওই ডে-কেয়ারের এক কর্মী। তবে তদন্তে অভিযোগ ওঠে, তিনি কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারী সংস্থাকে না জানিয়ে শিশুদের পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে এমন সংবেদনশীল ভিডিয়ো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও ডে কেয়ারের ওই কর্মীর দাবি, তিনি প্রথমেই বিষয়টি সুপারভাইজ়ারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দোষী কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার বদলে তাঁকেই কাজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর পরেই তিনি ভিডিয়োগুলি পোস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে ওই মহিলাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ তাঁকে কেন আটক রেখেছে তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। যদিও পুলিশ পরে জানায়, তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং ভিডিয়ো ফাঁসের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিশু নির্যাতনের মূল মামলায় ইতিমধ্যেই ডে-কেয়ারের দুই কেয়ার-গিভার-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনায় আরও কয়েকজন কর্মীর জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তদন্ত এগোলে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
ঘটনার পরে সংশ্লিষ্ট আইটি সংস্থা ক্যাম্পাসের ডে-কেয়ারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে তাদের অন্যান্য ডে-কেয়ার পরিষেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য প্রয়োজন হলে বাড়ি থেকে কাজের (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে বলে সংস্থা জানিয়েছে।
এদিকে, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR) স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কমিশনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বেঙ্গালুরু গিয়েছে এবং পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে।
প্রাক্তন এই কর্মীর গ্রেপ্তারিকে ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, যিনি ঘটনাটি সামনে এনে শিশুদের উপর চলা নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ অন্যদের ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, শিশু নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত এবং সংবেদনশীল ভিডিয়ো বেআইনিভাবে প্রচারের অভিযোগ—দুটি পৃথক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।