কাটমানি নেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু এ বার ঘটল এক বেনজির ঘটনা। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে নেওয়া আবাস যোজনার কাটমানির টাকা এ বার সশরীরে ফেরত দিলেন এক গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান।
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের দাস পলসা পঞ্চায়েত এলাকায়। সেখানকার উপপ্রধান শ্যামল বায়েনের বিরুদ্ধে ওঠা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অবশেষে ৪১ জন উপভোক্তাকে মোট ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন অভিযুক্ত উপপ্রধান। টাকা ফেরতের সেই ভিডিয়ো ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধেবেলা বেশ কয়েকজন উপভোক্তা উপপ্রধান শ্যামল বায়েনের বাড়িতে যান। সেখানেই তিনি গ্রামবাসীদের থেকে নেওয়া কাটমানির টাকা একে একে সবার হাতে তুলে দেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন উপপ্রধান। কারও কাছ থেকে ৫ হাজার, কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি। কারণ, উপপ্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, আগে টাকা না দিলে আবাস যোজনার বাড়ি মিলবে না। যারা টাকা দিতে পেরেছিলেন, তারাই কেবল বাড়ি পেয়েছেন। আর যারা টাকা জোগাড় করতে পারেননি, তারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ৪১ জনকে টাকা ফেরত দেওয়ার খবর জানাজানি হতেই শনিবার সকালেও আরও বেশ কিছু গ্রামবাসী উপপ্রধানের বাড়ির সামনে ভিড় জমান। তারা নিজেদের টাকা ফেরত নেওয়ার দাবি জানান। তবে শনিবার যারা গিয়েছিলেন, তারা টাকা ফেরত পেয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনা সামনে আসতেই শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছ থেকে জোর-জবরদস্তি করে কাটমানি নিয়েছিল তৃণমূলের নেতারা। এখন আতঙ্কে তারা টাকা ফেরত দিয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছে। তাদের এতদিনে আত্মউপলব্ধি ঘটেছে যে অন্যের টাকা মেরে হজম করা অসম্ভব। তাই তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে। তবে মানুষের টাকা ফিরে পাওয়ার দাবিকে যে তারা শেষ পর্যন্ত সম্মান জানিয়েছে, তার জন্য তাদের সাধুবাদ জানাই।’
অন্যদিকে, এই বিপুল অর্থ ফেরতের বিষয়ে স্বয়ং অভিযুক্ত উপপ্রধান শ্যামল বায়েনের প্রতিক্রিয়া নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এইসময় অনলাইনের তরফ থেকে। তবে তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। গোটা ঘটনায় দাস পলসা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।