বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমী অক্ষের জোড়া ফলাতেই আগামী তিনদিন দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। এই আবহে শনি, রবি ও সোমবারের টানা ছুটিতে সৈকত শহর দিঘা, তাজপুর এবং মন্দারমণিতে উপচে পড়েছে পর্যটকদের ভিড়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও দিঘা মোহনা উপকূল পুলিশের পক্ষ থেকে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি ও মাইকিং শুরু করা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে আগামী তিনদিন পর্যটকদের সমুদ্রে নামা বা স্নান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মাইকিং করে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস থেকে দূরে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যে সমস্ত মৎস্যজীবী ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাদের অবিলম্বে পাড়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনও ট্রলারকে সমুদ্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
জলোচ্ছ্বাসের কারণে ভিড় টানা ছুটির মরসুমে দিঘার সমুদ্রে নামতে না পেরে স্বাভাবিকভাবেই বহু পর্যটক কিছুটা হতাশ। তবে স্নানের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও, উপকূলের নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দানবীয় ঢেউয়ের আছড়ে পড়া এবং প্রকৃতির অপরূপ রূপ উপভোগ করছেন তারা। সমুদ্রের এই রুদ্র রূপ দেখতেও পর্যটকদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সৈকত জুড়ে মোতায়েন রয়েছে নুলিয়া এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অবস্থান করছে। এর জেরে কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৭ দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়াতে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং বর্ধমানে জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা।
উপকূল এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যার গতিবেগ সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।