• চার সংস্থার নামে টাকা তুলে পাচারের অভিযোগ দেবরাজের নামে, কালিম্পংয়ে কেনা হয় জমিও
    এই সময় | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারির পরে তাঁর বিপুল টাকার উৎসের নিত্যনতুন তথ্য হাতে আসছে তদন্তকারীদের। বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, তোলাবাজির বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত চারটি সংস্থার মাধ্যমে বাজার থেকে তুলে তা ভিন রাজ্যে পাচার করা হয়েছে। কেনা হয়েছে একাধিক সম্পত্তি। যার মধ্যে রয়েছে কালিম্পং-এর একটি জমিও। এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছতে দেবরাজ-ঘনিষ্ঠ ৩২ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল(সিট)। এই তালিকায় রয়েছেন, বিধাননগর পুরনিগম, দক্ষিণ দমদম পুরসভা এবং রাজারহাট ও নিউটাউনের একাধিক নেতা।

    এদের মধ্যে বিধাননগরের প্রাক্তন কাউন্সিলার মণীশ মুখোপাধ্যায়, গোপাল বাগুই, বিনু মণ্ডল, রতন মৃধাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। বাকিদেরও ধাপে–ধাপে ডাকা হবে। মূলত এদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই তোলাবাজির টাকা ঠিক কোথায়–কোথায় লগ্নি করা হয়েছে, তার হদিশ পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, দফায়–দফায় জেরা করা হচ্ছে েদবরাজকে।

    বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, ২০১৫–তে দেবরাজের তেঘড়িয়ার বাড়ির নথি দেখিয়ে মাত্র ১ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি সংস্থা খোলা হয়েছিল তাঁর বাবা তরুণকুমার চক্রবর্তীর নামে। তিনি ছিলেন এর নামমাত্র মালিক। জিএসটির নথি এবং বাগুইআটির একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের আড়াই লাখ টাকার কম ব্যালান্স থাকা অ্যাকাউন্ট ছাড়া এই সংস্থার কোনও বাস্তব বাণিজ্যিক অস্তিত্ব নেই। তবে ওই সংস্থাকে আড়াল করেই নাকি কোটি কোটি টাকার লেনদেন, জমি কেনাবেচা ও সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্বিতীয় সংস্থাটি দেবরাজের এক আত্মীয়ের। ২০২২–এ দমদমের শ্যামনগর উদ্বাস্তু কলোনির ঠিকানায় নথিবদ্ধ ওই সংস্থার কাজ মেলা বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। যদিও গোয়েন্দাদের সন্দেহ—এর আড়ালেও তোলাবাজির কালো টাকা লগ্নি করা হয়েছে। আর তৃতীয়টি হলো, ছত্তিসগড়ের একটি বড় নির্মাণ সংস্থা। যেটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তাঘাট নির্মাণের কাজের সঙ্গে যুক্ত।

    দক্ষিণ দমদমের এক কাউন্সিলারের একটি নির্মাণ সংস্থাও গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে রয়েছে। ওই চারটি সংস্থার মাধ্যমেও বিপুল অর্থ ভিন রাজ্যে পাচার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রাজারহাট–গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ, ‘দেবরাজের দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা। তদন্ত হলেই সব সামনে আসবে।’ ২০২৪–এ লোকসভা ভোটের ঠিক আগে দেবরাজের ৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। তবে কোনও অ্যাকাউন্টেই বর্তমানে মোটা টাকা নেই। এই পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ তোলাবাজির টাকা কোথায় গেল, সেটা জানা তদন্তকারীদের অন্যতম টার্গেট।

  • Link to this news (এই সময়)