উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রাম মন্দিরে রামলালাকে দেওয়া ভক্তদের সোনা ও মূল্যবান উপহার চুরির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় দেশ। এরই মাঝে বিস্ফোরক দাবি দেশের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এস. লক্ষ্মীনারায়ণের। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের হাতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যে সোনা মোড়ানো রামচরিতমানস তুলে দেওয়া হয়েছিল, বর্তমানে তার খোঁজ মিলছে না। এস. লক্ষ্মীনারায়ণের দাবি, বহুবার মন্দির ট্রাস্টের কাছে সোনার রামচরিতমানস সম্পর্কে জানতে চাইলেও সন্তোষজনক কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, তার প্রয়াত মা নিজের জীবনের ১৫ থেকে ১৮ বছর সময় ব্যয় করেছিলেন রাম নাম লিখতে। মায়ের সেই ভক্তির কথা স্মরণ করেই তিনি ও তাঁর স্ত্রী সরস্বতী মিলে ১৪৭ কেজি ওজনের একটি রামচরিতমানস তৈরি করিয়েছিলেন। এতে রামচরিতমানসের ১০,৯০২টি শ্লোক খোদাই করা ছিল। এর ৫২২টি পৃষ্ঠায় খাঁটি সোনার প্রলেপ দেওয়া ছিল, যার আনুমানিক বাজার মূল্য সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। রাম মন্দির আন্দোলনের শুরু থেকেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা সক্রিয় ভাবে এতে যুক্ত ছিল এবং কন্যাকুমারী থেকে পাঠানো প্রথম ইটটি তাঁদের বাড়ি থেকেই এসেছিল বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব।
এস. লক্ষ্মীনারায়ণ একটি সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিলে চম্পত রায়ের হাতে উপহারটি তুলে দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল এটি রাম মন্দিরের গর্ভগৃহে রাখা হবে। কিন্তু সে সময়ে তাকে কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিবের কথা অনুযায়ী, দানের পরে প্রথমদিকে গ্রন্থটি রামলালার গর্ভগৃহের সামনে রাখা হয়েছিল এবং তার ছবিও তাঁকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেটি সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
এর পরে ওই প্রাক্তন আমলার দাবি, তিনি একাধিকবার অযোধ্যা গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন, চিঠি লিখেছেন এবং ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু রামচরিতমানসটি কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য পাননি। এর পরে রসিদের জন্য তিনি দু’বার অযোধ্যায় চম্পত রায়ের কাছে যান। প্রথমবার ৯ ঘণ্টা এবং দ্বিতীয়বার ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর দেখা মিললেও, শুধু রসিদ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও রসিদ বা উপহারটি কোথায় সুরক্ষিত আছে, তার কোনও স্পষ্ট হদিশ দেওয়া হয়নি।
রাম মন্দির ট্রাস্টের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর না পেয়ে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব তার এক পরিচিতের মাধ্যমে হায়দরাবাদে আরএসএস (RSS) প্রধান ডঃ মোহন ভাগবতের সঙ্গে দেখা করেন। মোহন ভাগবত তাকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিলেও, পরবর্তীকালে আরএসএস প্রধানের তরফ থেকেও আর কোনও যোগাযোগ বা রসিদ পাঠানো হয়নি। এই মহামূল্যবান ভক্তির উপহার এ ভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ তছরুপের অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। এই আবহেই রামচরিতমানস গ্রন্থটি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।