• ফের বিজেপিতে ফিরছেন শোভন-বৈশাখী! উত্তর স্পষ্ট?
    আজকাল | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • রিয়া পাত্র

    মমতা ব্যানার্জির এক সময়ের অতি প্রিয় 'কানন', ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছেড়েছিলেন একসময়ে।  দলের দুঃসময়ে, অভিষেকের উপর হামলার দিনে মমতার সঙ্গে টানা দীর্ঘসময় দেখা গিয়েছিল শোভনকে। তারপর আবার, জনসমক্ষে নেই প্রায় মাসখানেক। প্রশ্ন উঠছিল, শোভন-বৈশাখী ভাল তৃণমূলে, নাকি খারাপ তৃণমূলে? কালীঘাট শিবির নাকি টিম ঋতব্রততে? নাকি বিজেপিতে ফেরার আগে জল মাপছেন। এসব জল্পনার মাঝেই  শোভন-বৈশাখীকে দেখা গেল মন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে। তাঁদের একইমঞ্চে, একসঙ্গে খোশমেজাজে দেখা যায়। 

    তবে, দিনকয়েক আগেই, তাঁদের বিজেপি যোগ নিয়ে আজকাল ডট ইন-কে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কোনও না কোনও দলে যে যোগ দিতেই হবে, রাজনীতিতে, এমন কোনও বিষয় নয়। তবে শুভেন্দু সরকারের কাজ-কর্মে আশাবাদী তিনি। যদি প্রশাসনিক বিষয়ে, নাগরিক হিসেবে পাশে থাকতে পারেন, কোনও বিষয়ে যুক্ত হতে পারেন, আপত্তি নেই। একই সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির জমানা নিয়েও ক্ষুব্ধ বৈশাখী। 

    রাখঢাক না করেই বলেন, 'দিদি যাঁদের ভরসা করেছেন, সকলেই ভরসা ভাঙছে এখন। কিন্তু আমি কিছু পুরনো কথা বলতে চাই। আমি শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। আমার অভিজ্ঞতা মারাত্মক। এমনও হয়েছে, যাঁরা বা যাঁদের নামে অভিযোগ করেছি, জানিয়েছি এইদিকে সমস্যা হচ্ছে, পরে জানতে পেরেছি দিদি সেই চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন, যাঁর নামে অভিযোগ তাঁর কাছেই। ' এখানেই শেষ নয়, বৈশাখীর গুরুতর  অভিযোগ, একসময়ে, তাঁর নাম শুনলেই, কেটে দেওয়া হতো 'দিদিকে বলো'র লাইন।

    শোভন প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইন-কে জানান তিনি-'শোভন কৃতজ্ঞতা ভোলে না। আমার আর শোভনের যোগাযোগের অন্যতম কারণ ছিল, কৃতজ্ঞতা বোধ দু'জনের। ও কখনও বলেনি, ওর মুখ দেখে ভোট জিতেছে। বরাবর বলে এসেছে মমতা ব্যানার্জি না থাকলে, শোভন, শোভন চ্যাটার্জি হতে পারত না। ব্যাক্তিগতভাবে ও দিদির পাশে থাকুক সারাজীবন, সেটাই চাইব। কিন্তু...'

    কিন্তু? বৈশাখী বলছেন, 'কিন্তু এই দিদিই বৈশাখীকে শিখণ্ডী বানিয়ে, রাজনীতি থেকে ব্রাত্য করে দিল শোভনকে। কোনও কারণ ছিল না। শোভনের কাজ নিয়ে, কলকাতাকে যে পরিষেবা দিয়েছে, তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু ওর রাজনীতির, কেরিয়ারের পিক সময়ে সরিয়ে দেওয়া হল। এই দিদিই ওকে জল-শোভন বলে পরিচিতি দিয়েছিলেন, যখন এনকেডিএ-তে, জলের সমস্যা মেটাতে এ'দরজায়, ও'দরজায় ঘুরল, তখন কেউ সামান্য সাহায্য করল না। দিদির সময়ে আসলে সবথেকে ক্ষতিকারক ধারণা ছিল-সব কাজ হয়ে গিয়েছে। চারদিকে দুর্নীতি। দিদি চোখ বন্ধ করে ভরসা করলেন যাঁদের, তাঁরাই এখন সরে পড়েছে। এখন বুঝছেন তিনি।'

    তবে বৈশাখী আশাবাদী, কখনও, সেরকম সময় হলে, শোভনের মতো 'কাজের মানুষ'কে কাজে লাগাবেন শুভেন্দু। দু'জনের মিলও উল্লেখ করছেন তিনি। বলছেন, 'একসময়ে তৃণমূলের ভিত শক্ত করে জয়ের মুখ দেখিয়েছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা আর মেদিনীপুর, কাণ্ডারী ছিলেন শোভন-শুভেন্দু। এখন শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী। আর শোভনের রাজনীতিকে মাঝপথে নষ্ট করলেন দিদি।' 

     
  • Link to this news (আজকাল)