• প্রণামি চুরি, তদন্ত কেদার-বদ্রীনাথেও
    বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার প্রাক্কালেই অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রণামি চুরি ইস্যুতে তোলপাড় রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতি। আগামী বছর বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা উত্তরাখণ্ডেও। আশ্চর্য বিষয় হল, রামমন্দিরের পর এবার সেরাজ্যের প্রাচীন বদ্রীনাথ মন্দিরেও প্রায় একই কায়দায় প্রণামি চুরির বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। আর সেই অভিযোগ এতটাই গুরুতর যে, বদ্রীনাথ-কেদারনাথ টেম্পল কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী স্বয়ং জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কোনো দোষী ছাড় পাবে না। দ্বিবেদী প্রভাবশালী বিজেপি নেতা। তাঁর সাফ কথা, চারধামের প্রণামির টাকা যখন গণনা করা হয়, তখন দূরদূরান্ত থেকে আগত সাধারণ মানুষ, ভক্তরাও উপস্থিত থাকতে পারে। এত স্বচ্ছতা বজায় রাখা সত্ত্বেও অর্থ নয়ছয়ের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি রীতিমতো উদ্বেগজনক। ধর্মীয় সংগঠন ভৈরব সেনা এই অভিযোগ জানিয়েছে। বদ্রীনাথ তো বটেই, চারধামের প্রণামি নিয়েই তদন্ত হবে। ইতিমধ্যেই কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ মন্দিরের সমস্ত কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। 

    একঝাঁক মন্দির যুগ যুগ ধরে ভারতের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ঐশ্বরিক আত্মনিবেদনের ভরকেন্দ্র। পুরাণ ও ইতিহাসের মেলবন্ধনে ভারতীয় সনাতন ধর্মের প্রবহমান ভক্তিস্রোতের ধারা আবর্তিত হয়েছে চার বিষ্ণুধামকে কেন্দ্র করে— পুরী, দ্বারকা, রামেশ্বরম এবং বদ্রীনাথ। চার বিষ্ণুধামের মতোই দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের চারধাম হল— কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে দীপাবলি, এই সময়কালে এই চারধাম থাকে ভক্ত, পর্যটক, পুণ্যার্থীদের দর্শন ও পুজোপাঠের জন্য উন্মুক্ত। বর্ষায় আগত ভক্তসংখ্যা তুলনামূলক কম। তবু এখনও পুরোদমে চলছে চারধামের দর্শন মরশুম। আর তার মধ্যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বদ্রীনাথ ধামের সম্পর্কে। হিন্দুত্বের পোস্টার বয় নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বকালে এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিরই হিন্দুধর্মস্থলগুলিতে একের পর এক মন্দিরে ভক্তদের নিবেদন করা প্রণামি, অলংকার চুরির ঘটনায় বস্তুত উত্তাল ভারত। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘যাদের পরিচালিত মন্দিরে চুরি, সেই বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটিই তদন্ত করছে? এর থেকে হাস্যকর কিছু হয় না। বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাই।’ কংগ্রেসের আরও কটাক্ষ, বিজেপি চারধামের নামে ভোট চায়। আর সেই চারধাম থেকেই চুরি করে। রামমন্দিরের নামে ভোট চায়। সেই রামমন্দিরের প্রণামি আত্মসাৎ করে। 

    অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামি চুরির ঘটনায় এসআইটি এখনও তদন্ত চালাচ্ছে। জানা গিয়েছে, চুরি ধরা পড়ার আগে ও পরে প্রণামি জমা পড়ার অঙ্কে বিপুল ফারাক দেখা যাচ্ছে। প্রণামির বাক্স থেকে যখন নিয়মিত টাকা সরানো হয়েছে, সেই সময় দৈনিক ১৫-১৭ লক্ষ টাকা জমা পড়ত। কিন্তু সিটের তদন্ত শুরুর পর থেকে ক্রমেই দিনে গড়ে অন্তত ২৪ লক্ষ টাকা প্রণামি জমা হচ্ছে। তদন্তকারীদের তাই ধারণা, গত দু’বছর ধরে দিনে ৫-৭ লক্ষ টাকা করে চুরি হয়েছে রামমন্দিরে। 
  • Link to this news (বর্তমান)