• ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় স্থান পেতে পারে নেওড়াভ্যালি জঙ্গল, চাওয়া হল প্রোজেক্ট রিপোর্ট
    বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: চাওয়া হল প্রোজেক্ট রিপোর্ট। ইউনেস্কোর ন্যাচারাল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে স্থান পেতে পারে উত্তরবঙ্গের নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান। শনিবার জলপাইগুড়িতে উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি বলেন, কেন্দ্রের তরফে নেওড়াভ্যালি সংক্রান্ত বিস্তারিত চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের সম্ভাব্য তালিকায় নেওড়াভ্যালির নাম ছিল। তারপর আর প্রক্রিয়াটি বিশেষ এগয়নি। এখন ফের কেন্দ্রের তরফে নেওড়াভ্যালি নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এবার বাঘ গণনায় নেওড়াভ্যালির জঙ্গলে ক্যামেরা বসাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়েনি। কিন্তু রেড পান্ডা, হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, তিব্বতি নেকড়ে সহ বেশকিছু দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর ছবি ধরা পড়েছে। 

    এদিকে, নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান যাতে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড ন্যাচারাল হেরিটেজ সাইটে অন্তর্ভুক্ত হয়, সেব্যাপারে আবেদন জানানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের কনভেনর রাজ বসু। তিনি বলেন, রাজ্যে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড ন্যাচারাল হেরিটেজ সাইটে আগেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সুন্দরবন। সেটি শেয়ার হেরিটেজ। কারণ সুন্দরবনের কিছুটা বাংলাদেশে, কিছুটা আমাদের রাজ্যে। উত্তরবঙ্গে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে প্রচুর জীব বৈচিত্র রয়েছে। গোরুমারা জাতীয় উদ্যান যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকে শুরু হয়ে সাড়ে দশ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এই জাতীয় উদ্যানের বিস্তৃতি। সিকিমের জঙ্গলের সঙ্গে এটি সংযুক্ত। ৮৮ বর্গ কিমি এলাকার ঘন জঙ্গলে যে সংখ্যক দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী রয়েছে নেওড়াভ্যালিতে, তা অনেক জায়গাতেই নেই। সেই নিরিখে এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড ন্যাচারাল হেরিটেজ সাইটে স্থান পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করি। 

    এটা হলে উত্তরের মুকুটে নয়া পালক যুক্ত হবে বলে মনে করেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। নেওড়ার ঘন জঙ্গল, রডোডেনড্রন ও দুর্গম ট্রেকিং রুট অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে নয়া মাত্রা যোগ করতে পারে। কালিম্পং থেকে ৩২ কিমি এবং লাভা থেকে ১০ কিমি দূরে নেওড়ার জঙ্গলের সর্বোচ্চ স্থান রচেলা পাস, যার উচ্চতা ১০ হাজার ৬০০ ফুট। এই জঙ্গলে বসানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় একাধিকবার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়েছে। 

    বনদপ্তর সূত্রে খবর, সিকিমের জঙ্গলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় নেওড়ার জঙ্গল থেকে অনেক সময় বন্যজন্তু পড়শি রাজ্যের জঙ্গলে চলে যায়। এবারের টাইগার শুমারিতে নেওড়ার লাগোয়া সিকিমের জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে বলে এদিন জানিয়েছেন উত্তরের মুখ্য বনপাল। 

    পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, সিকিমের কাঞ্চনজঙ্ঘা ন্যাশনাল পার্ক ডুয়েল হেরিটেজ সাইট। একদিকে ন্যাচারাল, অন্যদিকে কালচারাল হেরিটেজ। আবার পড়শি রাজ্য অসমে মানস জাতীয় উদ্যানও ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা পেয়েছে। সেক্ষেত্রে নেওড়াভ্যালির হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। 
  • Link to this news (বর্তমান)