নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই চালু হয়ে যাবে বর্ধমান রোডের নয়া ফ্লাইওভার। শনিবার এমনটাই জানিয়েছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিষদীয় ও পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। শিলিগুড়ি শহরের সেভক রোড, বিধান মার্কেট, ক্ষুদিরামপল্লি, শেঠ শ্রীলাল মার্কেটের যানজট সমস্যা সমাধানে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ডে পার্কিং জোন চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সকালে প্রস্তাবিত পার্কিং জোন এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন শিলিগুড়ির পুর কমিশনার বীর বিক্রম রাই ও ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরা।
মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফ্লাইওভার, পার্কিং জোন, এসব হয়ে গেলে যানজট আরও কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ডে পাকাপাকিভাবে পার্কিং জোন করতে পেভার ব্লকের রাস্তা তৈরি সহ পরিকাঠামোগত কিছু কাজ করতে হবে। সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ওই কাজ করতে সময় লাগবে কিছুটা। কিন্তু তার আগে এ মাসের ১১-১২ তারিখ থেকে গাড়ি রাখা শুরু হবে। বিধান মার্কেটে যেসব বাইক, স্কুটার দিনভর রেখে দেওয়া হয়, প্রথম পর্যায়ে সেগুলি রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রীর বার্তা, স্টেডিয়ামের মেলার মাঠে পার্কিং জোন চালু হয়ে গেলে বিধান মার্কেট সংলগ্ন রাস্তায় আর গাড়ি রাখা যাবে না। পার্কিং ফ্রি করে দেওয়া হবে রাস্তা। তবে রাস্তা থেকে পার্কিং জোন উঠে গেলে সেখানে কেউ ব্যবসা করতে বসে পড়বেন, সেটাও যে চলতে দেওয়া যাবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মন্ত্রী। বর্তমানে স্টেডিয়ামটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে শিলিগুড়ি পুরসভা। কিন্তু পুরসভার পক্ষে ওই স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ চালানো সম্ভব নয়। সেকারণে পুরসভা রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখেছে বলে জানান শংকর ঘোষ।
শিলিগুড়িতে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। এদিন শহরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যামাপ্রসাদ প্রাইমারি শিক্ষামন্দির স্কুলে পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের লক্ষ্য, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। সেই লক্ষ্যে সরকারি স্কুলগুলির যেসব সমস্যা রয়েছে, তার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশবন্ধুপাড়ার পাইপ লাইন এলাকায় শ্যামাপ্রসাদ প্রাইমারি শিক্ষানিকেতনে পা রেখে এদিন স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন শংকর। বলেন, ছোটবেলায় এই স্কুলে পড়তাম। তখন চট আর টিনের বাক্স নিয়ে আসতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, যাঁর নামে এই স্কুল, তাঁকে চেনানোর জন্য পাঠ্যক্রমে কিছু ছিল না। আসলে এমন ইতিহাস পড়ে আমরা বড় হয়েছি, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত মাটির ইতিহাস তুলে ধরেনি। কারণ পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত ইতিহাস কখনওই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে হতে পারে না। ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্ম বার্ষিকীতে এই স্কুলে অনুষ্ঠান হবে। শিলিগুড়ি পুরসভা ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এই স্কুলে বেশ কিছু সংস্কার কাজ হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিও বসবে বলে জানান শংকর। • নিজস্ব চিত্র।