সংবাদদাতা, কালনা: জয়ের দোর গোড়ায় পৌছে অল্পের জন্য শারীরিক অসুস্থতায় সপ্তসিন্ধু জয় অধরাই রয়ে গেল বাংলার জলকন্যা সাতারু সায়নী দাসের। সপ্তসিন্ধুর ৬টি সিন্ধু জয় করে শনিবার শেষ সিন্ধু জাপানের সুগারু চ্যানেল জয়ে সমুদ্রে নেমে ১৫ কিলোমিটার যাওয়ার পর হঠাৎই বুকে ব্যথা অনুভব হওয়ায় সাঁতার বন্ধ রাখতে বাধ্য হন সায়নী। তিনি সুস্থ আছেন বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়। আগামী দিনে জয়ের লক্ষ্যে ফের প্রস্তুতি নেবেন বলে জানা গিয়েছে। কালনা শহরের বারুইপাড়ার বাসিন্দা সায়নী দাসের ছোটো থেকেই সাঁতারে আগ্রহ দেখে পাড়ার পুকুর ও সুইমিং পুলে মেয়েকে প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন বাবা রাধেশ্যাম দাস। অল্প বয়সে স্কুল প্রতিযোগীতা থেকে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সাফল্য আসে। এরপর ওপেন সুইমার হিসাবে ২০১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল জয়। এরপরই সায়নী সপ্তসিন্ধু জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকেন। শুরু হয় অক্লান্ত পরিশ্রম। ভাগীরথী ও পুরীর সমুদ্রে চলে অনুশীলন। একাগ্রতা, অধ্যাবসায়ের ফলস্বরুপ ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার রটনেস্ট চ্যানেল, ২০১৯ সালে আমেরিকার ক্যাটালিনা, ২০২২ সালে এশিয়ার প্রথম মহিলা সাতারু হিসাবে আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মলোকাই চ্যানেল জয় করে দেশের তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন বিদেশের মাটিতে। সপ্তসিন্ধু জয়ের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে বিপদসংকুল নিউজিল্যাণ্ডের কুক স্ট্রেইট ও নর্থ চ্যানেল জয় সায়নীর। ২০২৫ সালে জিব্রালটার চ্যানেল জয়ের পর সপ্তসিন্ধুর কেবল বাকি ছিল জাপানের সুগারু চ্যানেল। ইতিমধ্যে সায়নীর একের পর সাফল্যে রাজ্য সরকার এই সাঁতারুকে খেলশ্রী সম্মান ও জাতীয় স্তরে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তেনজিং নোরগে ন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ডও পান। প্রতিটি চ্যানেল জয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচে বাড়ি বন্ধক রাখা সহ শুভানুধ্যায়ীদের সাহায্য নিতে হয়েছে দাস পরিবারকে। সপ্তসিন্ধু জয়ের স্বপ্ন পুরণে গত ২৮ জুন জাপানের উদ্দেশে রওনা দেন সায়নী। সঙ্গে ছিলেন বাবা রাধেশ্যাম ও মা রূপালিদেবী। গত ৪ জুলাই রাতে সুগারু চ্যানেল জয়ে নামার অনুমতি পান সায়নী। সেই মতো নিদিষ্ট সময়ে সাঁতার শুরু করেন। সুগারু চ্যানেল ৩০ কিলোমিটার জলপথ। উত্তাল ঢেউ, ঠাণ্ডা জল ও জলজ হিংস্র প্রাণীর ভয়কে উপেক্ষা করেই সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের বিপরীতে সাঁতার কেটে এগিয়ে যেতে থাকেন সায়নী। সোস্যাল মিডিয়ার দৌলত্যে বহু মানুষ তা দেখছিলেন। জলের মধ্যেই তাঁকে দড়ি বেঁধে খাবার নামিয়ে দেওয়া চলছিল। ১২ ঘণ্টা সাঁতারে ১৫ কিলোমিটার জলপথ অতিক্রমের পর সায়নী বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। শারীরিক সমস্যার সংকেত দেন লঞ্চে থাকা গাইড ও বাবা, মাকে। তাড়াতাড়ি তাঁকে তোলা হয় জল থেকে। শুরু হয় চিকিৎসা। এশিয়া মহাদেশের প্রথম মহিলা হিসাবে সপ্তসিন্ধু জয় এবারের মতো অধরাই থেকে গেল। • ফাইল চিত্র