নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ছ’হাজার টাকা চুরির অভিযোগ। তার জেরে পুরানো এক কর্মীকে দীর্ঘক্ষণ ধরে মারধরের অভিযোগ উঠল মালিকের বিরুদ্ধে। মারধরের ফলে অসুস্থ ওই কর্মী পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। রাতেই তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী কৌশিক সাহাকে গ্রেপ্তার করে হাবড়া থানার পুলিশ। মৃতের নাম রতন দাস (৫৫)। বাড়ি নদীয়া জেলায়। ধৃত কৌশিক হাবড়ার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ বছর ধরে হাবড়ায় কৌশিকের ট্রান্সপোর্ট গোডাউনে কাজ করতেন রতন। দীর্ঘদিন কাজের সুবাদে মালিকের বিশ্বস্ত কর্মী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু গত রবিবার হঠাৎই রতনকে বাড়ি থেকে গোডাউনে ডেকে পাঠানো হয়। ৬ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তুলে সেখানে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ মারধর করা হয়। তাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে হাবড়া হাসপাতালে ও পরে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয় তাঁকে।
পরিবারের অভিযোগ, রতনের চিকিৎসার খবর দেওয়া হলেও মারধরের ঘটনা তাঁদের জানানো হয়নি। বরং ফোনে যোগাযোগ করলে মালিক জানিয়েছিলেন, রতনের শারীরিক অবস্থা ভালোই। শুক্রবার পরিবারের সদস্যেরা নার্সিংহোমে পৌঁছে রতনের শারীরিক অবস্থা দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে হাবড়া থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁরা জানতে পারেন ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে রতনের। এরপর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই মধ্যমগ্রাম থেকে কৌশিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মৃতের স্ত্রী পিংকি দাস বলেন, ৬ হাজার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে আমার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার জেরে ওঁর মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে। রতন দাস