মাসখানেক পর থেকে নয়া প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন গ্রাহক, কাজের মেয়াদ শেষের ৩-৬ দিনের মধ্যে মিলবে পিএফের থোক টাকা
বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৬
বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: পিএফ সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে দুর্ভোগ আপাতত চলবে। ক্লেমের টাকা পাওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য অনলাইন পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়তে হবে গ্রাহকদের। সমস্যা হবে কর্মদাতা সংস্থাগুলিরও। সম্প্রতি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও’র প্রযুক্তিগত বদল আনা হয়েছে। সেই প্রযুক্তি আরও উন্নত করার চেষ্টা চলেছে। যে নতুন প্রযুক্তি এসেছে, তা এখনই সুষ্ঠুভাবে চালু করা যাবে না বলেই সরকারিভাবে জানিয়ে দিয়েছে ইপিএফও। দপ্তরের কর্তাদের দাবি, আপাতত মাসখানেক এই সমস্যা থাকবে। তবে নতুন প্রযুক্তি পুরোদমে কার্যকর হয়ে গেলে একাধিক সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। ক্লেম পাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিষেবা মিলবে অনেক তাড়াতাড়ি। অফিসারদের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এড়িয়ে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত সহায়তায় মিলবে পরিষেবা।
পিএফে পুরানো প্রযুক্তির খোলনলচে বদলে নতুন প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে। তখন থেকেই কিছু কিছু পরিষেবা পেতে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। গত মাসের একেবারে শেষ লগ্নে এসে চারদিনের জন্য সম্পূর্ণভাবে অনলাইন পরিষেবা বন্ধ রাখে পিএফ কর্তৃপক্ষ। তারপর নতুন করে পোর্টাল চালু হয়েছে। কিন্তু এখনই সেই পোর্টাল সুষ্ঠুভাবে কাজ করবে না বলেই জানানো হয়েছে। সরকারিভাবে বলা হয়েছে, আগামী দু’সপ্তাহ গ্রাহক ও কর্মদাতা সংস্থাগুলি কিছুটা দুর্ভোগে পড়তে হবে। তবে অফিসারদের একাংশের বক্তব্য, নতুন প্রযুক্তি ঠিকঠাক চালু হতে মাসখানেক সময় লাগবেই।
ইপিএফও’র কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্য এবং টিইউসিসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শিওপ্রসাদ তিওয়ারি বলেন, ‘জুলাইয়ের গোড়ায় দিল্লিতে এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে আমাদের নয়া প্রযুক্তির সুবিধা সম্পর্কে জানানো হয়। ফাইনাল সেটেলমেন্ট অর্থাৎ কাজের মেয়াদ শেষে থোক টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে মাত্র ৩ থেকে ৬ দিন সময় লাগবে। গোটা প্রক্রিয়া হবে প্রযুক্তিনির্ভর। কর্মী বা অফিসারদের হস্তক্ষেপ থাকলে তা হবে ন্যূনতম। পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে কম অঙ্কের অ্যাডভান্স নিতে চাইলে তা মিলবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে।’ তিনি আরও জানান, নয়া প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাইটস ২.০১’। দেশের ১২০টি আঞ্চলিক পিএফ অফিসের তথ্য এক জায়গায় আনা হয়েছে। ফলে অনলাইন পরিষেবাগুলি অতি দ্রুত দেওয়া সম্ভব হবে।
দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাস থেকে নতুন যে রুল চালু হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, আবেদন পাওয়ার ২০ দিনের মধ্যে ক্লেম মেটাতে হবে। যদি ক্লেমের আবেদনে কোনো ত্রুটি থেকে যায় বা যথাযথ নথি না থাকে, তাহলে গ্রাহককে তা জানাত হবে ওই ২০ দিনের মধ্যেই। যদি দপ্তরের কর্তাদের গাফিলতির কারণে ক্লেম মেটাতে ২০ দিনের বেশি দেরি হয়, সেক্ষেত্রে বাড়তি দিনের জন্য ক্লেমের উপর ১২ শতাংশ হারে সুদ মেটাতে হবে। সেই টাকা দেবেন সংশ্লিষ্ট অফিসার। দপ্তরের কর্তারা।