• বারাসত-মধ্যমগ্রামে অটো-টোটো চলাচল বন্ধের নির্দেশ, আন্দোলনে চালকরা
    eTV Bharat | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • বারাসত, 5 জুলাই: জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চালানো যাবে না । প্রশাসনিক বৈঠক ডেকে একথা জানিয়ে দেওয়া হল চালকদের । তারই প্রতিবাদে শনিবার উত্তর 24 পরগনার জেলা সদর বারাসতের টোটোচালকরা বিক্ষোভে সামিল হলেন । তাঁরা রবীন্দ্রভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখান । তাঁদের দাবি, এতদিন তাঁরা নিয়মের মধ্যে থেকেই রাস্তায় টোটো চালাতেন । রাতারাতি তাঁদের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে । তাঁদের জীবন ও জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে । পাশাপাশি, অটো চালানোর উপরও বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে ৷

    গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের সর্বত্র টোটোর সংখ্যা বেড়েছে । উত্তর 24 পরগনা জেলাও তার ব্যতিক্রম নয় । জেলা সদর বারাসত ও পাশের মধ্যমগ্রাম শহরে আঞ্চলিক পরিবহণে অনুমোদনবিহীন কয়েক হাজার টোটো চলাচল করে । বারাসত শহরের উপর দিয়ে গিয়েছে 12 নম্বর জাতীয় সড়ক, যশোর রোড, টাকি রোড ও ব্যারাকপুর রোড । বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাতীয় ও রাজ্য সড়কে বেপরোয়া ভাবে টোটো চলাচল করে । বেলাগাম টোটো চলাচলের জন্য জেলা সদরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে । প্রতিদিনই ঘটে চলেছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত শহরে অনুমোদিত টোটোর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার । অথচ শহরে টোটো চলে 10 হাজারের মতো । জাতীয় ও রাজ্য সড়কে বেপরোয়া টোটো চলাচলের জন্য শহরের বাসিন্দাদের যানজটে নাকাল হতে হয় । মধ্যমগ্রামে অনুমোদনবিহীন টোটোর সংখ্যা বারাসতের তুলনায় কিছুটা অবশ্য কম । টোটো চলাচলের ক্ষেত্রে এতদিন কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না । তৃণমূলের সরকারের সময়ে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে কলকাতা হাইকোর্ট টোটো চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল । কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশও সে ভাবে কার্যকর করা হয়নি ।

    রাজ্যে পালাবদল হতেই হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে জেলার পুলিশ ও প্রশাসন উদ্যোগী হয়েছে । কয়েকদিন আগে প্রশাসনিক বৈঠকে বারাসত ও মধ্যমগ্রাম শহরে টোটো চলাচল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । শনিবার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বার্তা টোটোচালকদের কঠোরভাবে জানিয়ে দিতে বারাসতের রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠক হয়‌ । ওই বৈঠকে ছিলেন আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক ও ট্র্যাফিক পুলিশ আধিকারিক-সহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা । ছিলেন টোটো ও অটোচালকরা ।

    ওই বৈঠক থেকে বারাসত ও মধ্যমগ্রামের টোটো ও অটো নিয়ে সরকারের নির্দেশ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় ও রাজ্য সড়কে কোনওভাবেই টোটো চলাচল করতে পারবে না । রাস্তায় চালানো যাবে না 15 বছরের পুরনো অটো । নির্দিষ্ট রুট পারমিট অনুযায়ী অটো চলাচল করবে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ জারি করার পরেই বারাসত ও মধ্যমগ্রামের অটো ও টোটো চালকরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ।

    টোটোচালক প্রশান্ত গণ বলেন, "টোটো নিয়ে আমাদের জাতীয় সড়কে উঠতে না-দিলে আমরা কোথায় চালাব ? নবপল্লি থেকে স্টেশনে বা পূর্ব দিকের কোনও স্কুলে যেতে গেলে তো জাতীয় সড়কে উঠতেই হবে । সরকারি নির্দেশে সেটা বন্ধ হয়ে যাবে । অথচ ওলা বা উবের চলবে । টোটো চালানোর জন্য আমাদের কাছ থেকে অতীতে অনেক টাকা নেওয়া হয়েছে । আর সরকার আমাদের রাস্তায় টোটো চালাতে দেওয়া হবে না বলছে । আমাদের জীবন ও জীবিকা প্রশ্নের মুখে পড়ল । আমাদের রুটি রুজি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে ।"

    মহিলা টোটোচালক তন্ময়ী বিশ্বাস বলেন, "বাড়িতে আমার দুটো বাচ্চা আছে । টোটো চালিয়ে আমি সংসার চালাই ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাই। প্রশাসন হঠাৎ করে বলছে রাস্তায় টোটো চালানো যাবে না । বারাসতের রাস্তাগুলো এমন ভাবে জড়ানো জাতীয় সড়কে না উঠলে কোথাও পৌঁছানো যায় না । সরকার যদি রাস্তায় আমাদের টোটো চালাতে না-দেয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব ? আমাদের জীবন-জীবিকা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাবে ।"

    টোটোচালকদের দাবির সঙ্গে রয়েছে ভারতীয় মজদুর সংঘ । সংঘের বারাসতের সহ-সভাপতি অভিষেক বসু বলেন, "প্রশাসনের কর্তারা সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন । প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই পুলিশ রাস্তা থেকে বহু টোটো তুলে নিয়ে গিয়েছে। দিন রাত টোটো ও অটো ধড়পাকড় করা হচ্ছে । যেসব টোটো পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছে, আগে সেগুলো ছাড়বে । তারপর আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব । আর যদি টোটো ও অটো না-ছাড়ে তাহলে আগামী মঙ্গলবার থেকে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করব ।"

    বারাসতের ডিএসপি ট্রাফিক নীহাররঞ্জন রায় বলেন, "জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ রাখা হবে । সরকারের নির্দেশ এদিন টোটো ও অটো চালকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে । সবাইকে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার কথা বলা হয়েছে ।"
  • Link to this news (eTV Bharat)