ফ্রান্স ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে ফিলাডেলফিয়ায় পৌঁছেছিল। অনেক ফুটবলবিশেষজ্ঞ ও সমর্থকের চোখে দিদিয়ের দেশঁর টিমই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি। তবে মাঠে নেমে পরিচিত ঝলমলে আক্রমণাত্মক ফুটবলের বদলে তাদের খেলতে হয়েছে এক কঠিন, শারীরিক এবং উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই ফ্রান্সকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। তীব্র গরমের মধ্যে হওয়া সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টির গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফরাসিরা।
পুরো ম্যাচ জুড়েই প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা এমবাপেকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। বারবার কঠিন ট্যাকল ও শারীরিক লড়াইয়ের মুখেও তিনি শান্ত ছিলেন। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর একটি ছোট ঘটনা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় চলে আসেন ফরাসি অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে উত্তেজনা, মুখোমুখি এমবাপে ও গিল
শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়রা যখন নিয়ম অনুযায়ী একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন, তখন এমবাপের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। কিন্তু ফরাসি অধিনায়ক সেই করমর্দনের জবাব না দিয়ে সরাসরি গ্যালারির দিকে এগিয়ে যান এবং সমর্থকদের সঙ্গে জয় উদ্যাপনে মেতে ওঠেন।
এতে স্পষ্টতই বিরক্ত হয়ে পড়েন গিল। হারের হতাশা এবং ক্ষোভ থেকে তিনি বল ছুড়ে মারেন এমবাপের দিকে। বলটি গিয়ে লাগে ফরাসি তারকার পিঠে। তবে এমবাপে কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্ত ভাবেই সেখান থেকে চলে যান।
পরে নিজের আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গিল বলেন, ‘আমি ওর সঙ্গে করমর্দন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ও আমাকে কোনও গুরুত্ব দেয়নি। তাই কিছু সময়ের জন্য মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। তবে এর পর আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি।’
এমবাপের এক গোলেই শেষ আটে ফ্রান্স
এই ম্যাচের প্রথমার্ধে VAR-এর সাহায্যে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। বক্সের মধ্যে দিয়েগো গোমেজের করা ফাউলের পর রেফারি সেই সিদ্ধান্ত দেন। স্পট-কিক নিতে গিয়ে কোনও ভুল করেননি এমবাপে। তাঁর নেওয়া সেই শটই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। এই গোলের সুবাদে টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। একই সঙ্গে চলতি টুর্নামেন্টে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাত, যা তাঁকে আবারও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের শীর্ষে তুলে দিয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের খুব কাছেও পৌঁছে গিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর কেরিয়ারের ১৯তম গোল। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির ২০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে এখন তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।