• মতের অমিলে সম্পর্ক নষ্টে বিশ্বাসী নই: রূপা গঙ্গোপাধ্যায়
    এই সময় | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পরে বিনোদন জগতের অনেক সমীকরণই বদলে গিয়েছে বলে মনে করেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তবে সেই পরিবর্তনকে কোনও তিক্ততার চোখে দেখেন না তিনি। তাঁর কথায়, ‘একটা সময়ে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই আমার সঙ্গে কথা বলতেন না। দু-একজন অবশ্য নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন। এখন দেখছি, তাঁদের অনেকেই আবার যোগাযোগ করছেন। কিন্তু এতে আমার খারাপ লাগে না। যে নীতিতে আমি বিশ্বাস করি, সেই নীতিতে অন্য কেউ বিশ্বাস নাই করতেই পারেন। মতের অমিল থাকলেই সম্পর্ক নষ্ট করতে হবে, আমি সেটা কখনও মনে করি না।’

    রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা ও বাস্তবের মধ্যে যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে, সেটাও স্পষ্ট করে তুলে ধরলেন তিনি। রূপা বলেন, ‘একটা সময়ে বছরে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ইনকাম ট্যাক্স দিতাম। আর এখন বিধায়ক হিসেবে খুবই সামান্য বেতন পাই। বাইরে থেকে অনেকেই ভাবেন, রাজনীতিতে এলেই অনেক লাভ হয়। বাস্তবটা কিন্তু একেবারেই অন্য রকম। রাজনীতি কোনও অর্থ উপার্জনের জায়গা নয়, এটা মানুষের জন্য কাজ করার দায়িত্ব।’

    বিধায়ক হিসেবে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষের সমস্যা, অভিযোগ এবং প্রত্যাশার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। সেই কারণেই নিজের এলাকার মানুষদের কাছে ধৈর্য ধরার আবেদন জানালেন তিনি। বিধায়কের কথায়, ‘আমি শুধু সোনারপুরের মানুষদের একটাই কথা বলতে চাই— আমাকে একটু সময় দিন। রাতারাতি তো সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। একই বিষয় নিয়ে যদি বারবার ফোন বা যোগাযোগ করেন, তা হলে কাজ করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ব। আমি বুঝতে পারছি, বহু বছর ধরে আপনারা যে অত্যাচার আর বঞ্চনা সহ্য করেছেন, তারই বহিঃপ্রকাশ এই অস্থিরতা। কিন্তু আমাদের উপর ভরসা রাখুন। আমরা কাজ করে দেখাতে চাই।’ সঙ্গে তিনি জোড়েন, ভোটে জিতে আসার পর থেকে আমার জীবনে ২৪ ঘণ্টাও কম পড়ে যাচ্ছে। বাড়িতে বসে লাঞ্চ করা তো ভুলেই গিয়েছি। ছোট টিফিন বক্সে করে খাবার নিয়ে বেরোই। গাড়িতেই কোনও রকমে খেয়ে নিই।

    নতুন প্রজন্মের অনেকেই রাজনীতিতে আসতে চাইছেন। তাঁদের উদ্দেশে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিলেন। তাঁর কথায়, ‘রাজনীতিতে আসতে চাইলে আগে নিজের আর্থিক ভিত্তিটা মজবুত করে নিন। পরিবারের এমন কেউ থাকুক, যিনি ব্যবসা করেন বা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল। কারণ রাজনীতি টাকা লুটে নেওয়ার জায়গা নয়। এখানে মানুষের জন্য কাজ করতে হয়। তাই এই পথে আসার আগে সেই বাস্তবটা বুঝে নেওয়া খুব জরুরি।’

    তবে রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও দর্শকদের মনে একটাই প্রশ্ন— আবার কি অভিনয় বা গানের জগতে ফিরবেন তিনি? প্রশ্ন শুনেই হেসে ফেলেন রূপা। তারপর বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সত্যিই কঠিন। কারণ এখন আমার হাতে সময়ই নেই। অনুপম খেরজি তাঁর আগামী কাজে অভিনয়ের জন্য আমাকে অনুরোধ করেছেন। আমি বলেছি, ভেবে দেখব। কিন্তু সত্যিই মনে হচ্ছে, এত কাজের মধ্যে অভিনয়ের জন্য সময় বের করা খুব কঠিন। তবে গানের বিষয়টা কিছুটা আলাদা। ওটার জন্য আলাদা করে দীর্ঘ সময় দিতে হয় না। যদিও অনেক দিন নিয়মিত রেওয়াজ নেই। তবু সবাই যখন এত ভালোবাসা দিয়ে বলছেন, নিশ্চয়ই বিষয়টা ভেবে দেখব।’

    কথায়–কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আজও শিল্পী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কোথাও হারিয়ে যাননি। তবে এই মুহূর্তে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় একজন জনপ্রতিনিধি। মানুষের আস্থা অর্জন করে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।
  • Link to this news (এই সময়)