এই সময় অনলাইন: শীতঘুম কাটিয়ে কাজে ফিরলেন অনেক দিন পরে!
লগ্নজিতা: আমি তো গান গাইতেই এসেছিলাম। গান গাওয়াটাই আমার প্রাইমারি কাজ। সুরের মাধ্যমে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছনো যায়। সেটা মিস্ করছিলাম। তার মানে এই নয় যে কাজ পাওয়ার জন্য ঘ্যান ঘ্যান করেছি। জাস্ট নিজের মতো থেকেছি।
এই সময় অনলাইন: সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম সুর করা গান আপনি গাইলেন
লগ্নজিতা: এটা একটা অদ্ভুত সমাপতন। ঋজুদার ছবিতে আমি গায়িকা হিসাবে ডেবিউ করি। আবার সুরকার হিসাবে ঋজুদার ডেবিউ গান গাইলাম আমি। ঋজুদার সঙ্গে তো আমার ১৩ বছরের সম্পর্ক। ২০১৩ থেকে আলাপ। আমাদের বন্ধুত্বের বেশিরভাগটাই ঝগড়া। তবে ঝগড়া করেও যে বন্ধুত্ব থেকে যায়, তা হলে বুঝতে হবে সেই সম্পর্কে কিছু সারবত্তা আছে। কাজ আমাদের বন্ধুত্বের একমাত্র রসদ নয়। কারণ শেষ ২০১৫ সালে ঋজুদার ছবিতে গান গেয়েছি। যেহেতু কাজের বাইরেও আমাদের বন্ধুত্বটা, তাই পাওয়া, হারানোর প্রত্যাশা বা ভয় কিছুই নেই। ফাইনালি ঋজুদা যখন সুরকার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করল, তখন কিন্তু আমাকেই মনে রেখেছে। এতে আমি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছি।
এই সময় অনলাইন: শেষ ১০ বছরে সৃজিতের ছবিতে গান গাওয়ার ডাক পেলেন না কেন?
লগ্নজিতা: সেটা নিয়েও ঝগড়া করেছি। অভিমান হয়েছে। তবে যাঁর উপর অভিমানী হয়েছে, তাকে সারাক্ষণ ফোন করে মনের কথা জানানোর মেয়েও আমি নই। ঋজুদা মাঝে অনেক ছবি বানিয়েছে। তবে কেন আমাকে ডাকেনি, সেটা জানি না। আর আমার জীবনে এত ল্যাদ, যে সেই কারণ খোঁজার এনার্জিও পাইনি।
এই সময় অনলাইন: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়র ছবিতে প্রথমবার আপনার গান শোনা যাবে
লগ্নজিতা: ১২ বছর লেগে গেল কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিতে গান গাইতে। আমার বন্ধুরা, সিনিয়ররা কৌশিকদার ছবিতে এর আগে গান গেয়েছেন। আমি নিজেও কৌশিকদার ছবিতে ভীষণ ভাবে গান গাইতে চেয়েছি। লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হলো, কিন্তু অবশেষে সেটা হলো। এই আর কী।
এই সময় অনলাইন: আপনি কি এখনও টলিউডে স্ট্রাগলিং পিরিয়ডে রয়েছেন?
লগ্নজিতা: সত্যি কথা বলতে আমাকে কথনও স্ট্রাগল করতে হয়নি। আমার জীবনে গান গাওয়ার চাহিদা ছাড়া বাকি সব চাহিদা খুবই কম। ফলে স্ট্রাগল বলতে যা বোঝায়, সেটা কোনও দিন সে ভাবে আমাকে করতে হয়নি। যে মানুষের ভাত নেই, মাথা গোঁজার ঘর নেই, কর্মসংস্থান নেই, সেইগুলো হলো স্ট্রাগল। আমরা যেগুলো করি, সেটা স্ট্রাগল নয়। আমাদের জার্নির-ই একটা অংশ।
এই সময় অনলাইন: আপনার সমসাময়িকেরা পর পর সুযোগ পাচ্ছেন, আপনি কি একটু বেছে কাজ করছেন?
লগ্নজিতা: কোনওদিনই আমি বেছে কাজ করি না। আমার কাছে কাজ এত কম আসে, তার মধ্যে যদি বাছতে হয় তা হলে বাড়ি বসে থাকতে হবে। এ বার কেন কাজ কম আসে, সেটা নিয়ে ভিক্টিম কার্ড প্লে করতে পছন্দ করি না। এই যে আগের সরকার আমায় ব্যান করেছিল, আমি কিন্তু ফেসবুকে কোনও পোস্ট করিনি। সরকার বদলে যাওয়ার পরেও ফেসবুকে পূর্বতন সরকারের তুলোধনা করার পক্ষপাতীও নই আমি। আমি জীবনে প্রচুর পেয়েছি। ঈশ্বরও আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন। তা ছাড়া তৃণমূল ব্যান করার আগে থেকেই আমি কাজ কম পাই। কিন্তু সেসব নিয়ে ভাবি না। তবে কম কাজ এলেও, যে গানগুলি আমি গাইতে পেরেছি সেগুলো সুপারহিট হয়েছে।
এই সময় অনলাইন: আপনার স্টেজ শোয়ের সংখ্যাও তো অনেক কমেছে
লগ্নজিতা: শো নিজে থেকে কমেনি। আরজি.করের ঘটনায় প্রতিবাদ করায় আমার শো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ বার এটা অনেকেরই হজম হতে না পারে। কারণ এর আগে অনেকেই আমার ফেসবুকে শোয়ের ছবি দেখে ভেবেছেন আমি মিথ্যে কথা বলছি। হ্যাঁ, শো আমি করেছি তবে সেগুলো সব বিদেশে। কারণ সেখানে তৃণমূল সরকারের কোনও প্রভাব ছিল না। গত ২ বছরে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৫টা শো করেছি। সেই পাঁচ জায়গায় তৃণমূলের কোনও প্রভাব ছিল না। তবে আর.জি কর কাণ্ডের আগে আমি ৩১ দিনে ২২টা শো করেছিলাম।
এই সময় অনলাইন: সরকার বিরোধী কথা বলার আগে কি এ বার থেকে সতর্ক হবেন?
লগ্নজিতা: না, আমি তেমন মানুষ নই। আবার যদি তেমন কোনও পরিস্থিতি আসে, তা হরে সরকার বিরোধী কথা আমি বলব। আরজি.করের পরে অনেকেরই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, যে আমি সব কিছু নিয়েই কথা বলব। কিন্তু সেটা তো হয় না। সারাদিন কথা বলা তো আমার কাজ নয়। গান গাওয়া, রেওয়াজ করা আছে। আমার একটা সংসার আছে। সবই তো সামলাতে হবে। আমি তো আর ফুলটাইম পলিটিশিয়ান নই।
এই সময় অনলাইন: কখনও রাজনীতিতে আসবেন?
লগ্নজিতা: গান ছাড়া বাকি যে বিষয়গুলি নিয়ে চর্চা করতে ভালোলাগে, রাজনীতি তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু আমি কখনও রাজনীতি করব না। কারণ রাজনীতি করতে গেলে সে বিষয়ে শিখতে হয়, জানতে হয়। আমি কখনও ছাত্র রাজনীতি করিনি। সেন্ট জেভিয়ার্সে পড়তাম। সেখানে কলেজ রাজনীতির চল নেই। ফলে যে জিনিসটা জানি না, সেটা নিয়ে কাজ করা মুশকিল।