পায়ে ফ্র্যাকচার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৮ বছরের এক কিশোর। শনিবার আচমকা মৃত্যু হয় তাঁর। তার পরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাঁচির একটি বেসরকারি হাসপাতাল। মৃতের নাম রাজু কুমার রঞ্জন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে রাজুর। শুধু তাই নয়, চিকিৎসার খরচ বাবদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃতের পরিবারের হাতে প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি বিল ধরিয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই দ্রুত তৎপর হন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের রিসেপশনে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। সেখানে মৃত কিশোরের আত্মীয়রা হাসপাতালের কর্মীদের উপরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পা ভাঙার চিকিৎসার জন্য এসে কী ভাবে একজন মারা যেতে পারে, তা নিয়ে অনবরত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করতে থাকেন রাজুর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, ভাঙা পায়ের ভুল চিকিৎসার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে রাজুর মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাল ভিডিয়োয় এক মহিলাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছে। হাসপাতালে উপস্থিত অনেকেই নিজেদের মোবাইলে ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করছিলেন। সেই ভিডিয়োই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সূত্রের খবর, রাজু ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের দাবি, একটি পথ দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায় তাঁর। তার পরে রাজুকে রাঁচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পরে টানা দুই থেকে তিন দিন তার ক্ষতস্থানে কোনও রকম ড্রেসিং বা ব্যান্ডেজ করা হয়নি। যার জেরেই সেই ক্ষত থেকে শরীরে মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি রাজুর পরিবারের সদস্যদের। এর পরে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় রাজুকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখার সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। প্রায় ৪০ দিন ধরে চিকিৎসার পরে সংক্রমিত পা কেটে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি এবং রাজুর মৃত্যু হয়। তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজুর পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার যথাযথ তদন্ত করা হবে। যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঘটনায় চিকিৎসার গুণমান এবং বেসরকারি হাসপাতালের আকাশছোঁয়া খরচ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।