• ‘আমার চেয়েও অনেক বেশি অসহায়’, অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা দুঃস্থকে দান সুস্মিতার
    এই সময় | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • নীলাঞ্জন দাস, রায়গঞ্জ

    এখনও যে মানবিকতা বেঁচে রয়েছে, তা প্রমাণ করে দিলেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরের বাসিন্দা সুস্মিতা বিশ্বাস। বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া নিয়ে মহিলাদের মধ্যে তুমুল হইচই চলছে। কে টাকা পেল, আর কে পেল না- তা নিয়ে চর্চার শেষ নেই। এই আবহে এক দুঃস্থ প্রতিবেশী শঙ্কর চক্রবর্তীর হাতে নিজের অন্নপূর্ণা যোজনার পুরো তিন হাজার টাকাই তুলে দিলেন সুস্মিতা। কেন? তাঁর যুক্তি, ওই ব্যক্তি তাঁর চেয়েও অসহায়! শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হাইরোড কালীতলা এলাকায় বাড়ি সুস্মিতা এবং শঙ্করের।

    প্রায় আট বছর আগে দুর্ঘটনার জেরে হাঁটাচলার শক্তি প্রায় হারিয়েছিলেন শঙ্কর। তার পর থেকে একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। তাঁরই প্রতিবেশী মাঝবয়সী সুস্মিতার ২২ ও ১২ বছরের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী অজয় বিশ্বাস পেশায় গাড়িচালক। এ দিকে, অবিবাহিত শঙ্করকে দেখাশোনার মতো কেউ নেই। দিদি আলপনা পাল সীমিত সামর্থের মধ্যে প্রতিদিন তাঁকে খাবার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেন। যদিও দিদি থাকেন কিছুটা দূরে। এ হেন নিঃসঙ্গ অসহায় শঙ্করের কাছে যেন পরিত্রাতা হয়ে হাজির হন সুস্মিতা। শনিবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রাপ্ত তিন হাজার টাকা শঙ্করের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।

    সুস্মিতা বলছেন, 'উনি আমার প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অনেকদিন ধরেই দেখছি তাঁকে। আমার স্বামী গাড়ি চালিয়ে সংসার চালান। দুই মেয়েকে মানুষ করছি। তাই ইচ্ছে থাকলেও এত দিন তাঁকে সাহায্য করতে পারিনি।' তাঁর সংযোজন, 'আমি আগের সরকারের আমলে দু'বার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। নতুন সরকার আসার পরে অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করি। তারই তিন হাজার টাকা পেলাম। আমার মনে হলো, ওই টাকাটা শঙ্কর দার হাতে তুলে দিই। এতে তাঁর কিছুটা তো সাহায্য হবে। তিনি আমার চেয়েও অনেক বেশি অসহায়।'

    ভবিষ্যতে সাধ্যমতো আরও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে রয়েছে সুস্মিতার। এ দিকে, সাহায্য পেয়ে শঙ্কর বলেন, 'হাঁটাচলা করতে পারি না। দীর্ঘদিন ধরে এ ভাবেই কাটাচ্ছি। এর আগে সে ভাবে কেউ সাহায্য করেনি। এই প্রথম কেউ এগিয়ে এলেন। ভালো লাগছে।' সুস্মিতার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • Link to this news (এই সময়)