• কমিশনের কাজে আঁটঘাঁট আগেই বেঁধে রেখেছে কালীঘাট!
    আজকাল | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মমতার ছায়াসঙ্গী হয়ে উঠেছিলেন। একের পর এক টিকিট, মন্ত্রিত্ব। সেই চন্দ্রিমা সরে গিয়েছেন মমতার পাশ থেকে, বলছেন আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন 'দিদি'। অন্যদিকে ক্রমশ একলা হতে থাকা 'দিদি' দায়িত্ব নিয়েছেন, দল এবার শক্ত হাতে ধরবেন তিনিই। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, নাম-প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ের এই চরম সময়ে চন্দ্রিমার সরে যাওয়ায় কতটা বিপাকে পড়বে কালীঘাট তৃণমূলে?

    এই প্রশ্ন ওঠার অন্যতম কারণ দুটি। এক হচ্ছে পরিস্থিতি। সোমবার সন্ধে ছ'টার সময়ে কমিশন তৃণমূলের দু'শিবিরের কাছেই নথি থেকে বক্তব্য, বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে। অন্যদিকে শনিবার পদত্যাগের পর, চন্দ্রিমা বলেছেন, 'আমি যেখানে ছিলাম সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। যাবতীয় পদ থেকে। আমি এসব ব্যাঙ্কে স্বাক্ষর করার অধিকারী ছিলাম, তৃণমূল কংগ্রেসের নামে বা সংশ্লিষ্ট যেসব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আমি স্বাক্ষর করার অধিকারী ছিলাম সব জায়গা থেকে পদত্যাগ করেছি।' তারপরেই বলেন, 'এমনকী ইসিআই-এর কাছে আমি কন্ট্যাক্ট পারসন ছিলাম, মাননীয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, দলের পক্ষ থেকে, আমি সেই জায়গা থেকেও নিজেও সরিয়ে নিচ্ছি।' চন্দ্রিমা জানান, তিনি যথা সময়ে তা জানিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনকে।

    চন্দ্রিমার সরে যাওয়া কতটা ধাক্কা দেবে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটকে? প্রশ্ন ওঠে, তাহলে চন্দ্রিমার সরে যাওয়ায় কতটা বিপাকে পড়বে কালীঘাট তৃণমূল?  সোমবারের আগে এই সরে যাওয়ায় বড় সমস্যা হবে কালীঘাট শিবিরের? তবে এই প্রসঙ্গে, কালীঘাট শিবির আবার তুলে ধরছে ১৫ জুনের একটি চিঠি। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারিকে মমতা ব্যানার্জির ওই চিঠিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত রকম যোগাযোগের, স্বাক্ষর করার অধিকারী হলেন কেবল দু'জন। অভিষেক ব্যানার্জি এবং ডেরেক ও' ব্রায়েন। সেখানেই অভিষেকের নামের পাশে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ উল্লিখিত, ডেরেককে তৃণমূলের জয়েন্ট সেক্রেটারি উল্লেখ করা হয়েছে।

    কালীঘাট তৃণমূল এই চিঠির কথা উল্লেখ করতেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মমতা ব্যানার্জি আগেভাগেই আঁটঘাঁট বেঁধেছিলেন। কারণ, শনিবার বিকেলের লাইভেও মমতা বলেন, 'আসল ঘটনা তা নয়। অনেকদিন ধরেই আমাকে বলছিলেন পদত্যাগ করবেন। ছেলে গিয়ে ইতিমধ্যেই হাত মিলিয়েছে। আমার তার জন্য কিছু বলার নেই। লাগেজ-ব্যাগেজ থাকতে পারে। আপনারা একজন কোথায় গেলেন না গেলেন, আই ডোণ্ট কেয়ার।' বিধানসভার বাইরে চন্দ্রিমাও বলেন, ছেলে সৌরভ ঋতব্রত শিবিরে হাত মেলানোর পরই, তিনি মমতা ব্যানার্জির কাছে গিয়ে অব্যাহতি চেয়েছিলেন।  অন্যদিকে, শনিবার মমতা বললেন, 'আমি নেতা চাই না, কর্মী চাই। সাধারণ মানুষের ভালবাসা থেকে বঞ্ছিত না হই।' 

     
  • Link to this news (আজকাল)