নাবালিকার ধর্ষণ-খুনে রণক্ষেত্র বারুইপুর, গণপিটুনিতে মৃত্যু যুবকের, ফোন শুভেন্দুর
আজ তক | ০৫ জুলাই ২০২৬
Baruipur minor murder: নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র উত্তপ্ত বারুইপুর। রবিবার সূর্যপুর হাট এলাকায় এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, ১১-১২ বছরের ওই নাবালিকাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তা ও রেল অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি; একের পর এক ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। এই সবেরই মধ্যে উত্তেজিত জনতার রোষ গিয়ে পড়ে এক যুবকের উপর। স্থানীয়দের সন্দেহ, তাঁকে অভিযুক্তদের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। এরপরই প্রবল গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় সেই যুবকের। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। অন্যদিকে, খবর পেয়ে মৃতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। এখনও পর্যন্ত দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ নাবালিকা বাড়ির বাইরে খেলতে বা খাবার কিনতে বেরিয়েছিল। তারপর থেকেই তার আর কোনও খোঁজ মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় রাতভর খোঁজাখুঁজি চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রবিবার সকালে বারুইপুর থানার ধপধপি ২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায়, বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মৃতার পরিজনেরা।
দেহ উদ্ধারের খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে সূর্যপুর স্টেশনেও অবরোধ করেন স্থানীয়রা। তার জেরে শিয়ালদহ-নামখানা শাখার ট্রেন চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।
উত্তেজনার মধ্যেই স্থানীয় এক যুবককে গণপিটুনিতে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে ওই যুবককে দেখা গিয়েছিল। সেই সন্দেহ থেকেই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও এই ঘটনার পৃথক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ে। পাল্টা লাঠিচার্জের অভিযোগও ওঠে। এই সংঘর্ষে কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। পরে পুলিশ মাইকিং করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মৃতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মঙ্গলবার ভবানী ভবনে গিয়ে দেখা করার জন্যও মৃতার পরিবারকে আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির আবেদন জানানো হবে। প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্তের পুরো প্রক্রিয়া ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভিডিয়োগ্রাফি করে সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার দুপুরের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় শিয়ালদহ-নামখানা শাখার ট্রেন চলাচল। নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে অপহরণ, ধর্ষণ এবং খুনের পিছনে কারা জড়িত, তা দ্রুত সামনে এনে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।