ডিম নয়, এবার ইট মারা হবে। যে সমস্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁদের উপর ডিমের বদলে ইট ছোঁড়ার নিদান দিলেন খোদ পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। উল্লেখ্য, মে মাসের ৪ তারিখে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই রাজ্যে দুই হাজারেরও বেশি পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজকর্ম কার্যত বন্ধ বলে অভিযোগ।
কারণ রাজ্যে সরকার বদল হতেই তৃণমূলের একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান এলাকা ছেড়েছেন। কেউ কেউ বাড়িতে থাকলেও পঞ্চায়েত মুখো হচ্ছেন না। ফলে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এবার পালিয়ে বেড়ানো পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। দিলীপ বলেন, ‘হয় ভালো মানুষের মতো চলে আসুন, কাজ করুন। না হলে ডিমের জায়গায় ইট মারা হবে। মনে রাখবেন পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে আপনারা মাসের পর মাস বেতন নিচ্ছেন, কিন্তু কাজ করছেন না। কাজ করতে না পারলে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। পদ আঁকড়ে থাকবেন না।’
উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার বদল হতেই সর্বত্রই তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে পঞ্চায়েত প্রধান, পুরপ্রধান থেকে শুরু করে তৃণমূলের একাধিক ছোট-বড় নেতার। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সর্বত্রই ডিম ছোঁড়া চলছে। উঠছে চোর চোর স্লোগান। আত্মরক্ষার্থে বেশিরভাগ জায়গাতেই পঞ্চায়েত প্রধানরা গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। ফলে মানুষ কোনও কাজে পঞ্চায়েত অফিসে গেলেও নিরাশ হয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
পঞ্চায়েতের এই সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘প্রধান, উপপ্রধানরা পালিয়ে বেড়ানোয় মানুষকে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মানুষ পঞ্চায়েতে গিয়ে কোনও কাজ পাচ্ছেন না। কোনও বিশেষ শংসাপত্র না পাওয়ায় অনেকের কাজ আটকে যাচ্ছে। বর্ষা আসছে, তার আগে রাস্তা হবে না। আবাসের ঘর পাবেন মানুষ। তাই এসব জনবিরোধী কাজ মেনে নেওয়া হবে না। আমি অনুরোধ করছি, আপনারা কাজ করুন। ভয় পাবেন না। আপনারা যদি কোনও ভুল বা অন্যায় না করেন, তাহলে ভয় পাচ্ছেন কেন। আপনারা যদি অবিলম্বে পঞ্চায়েতে না আসেন তাহলে আপনাদের সমস্যা আরও বাড়বে।’ এরপরই হুঁশিয়ারির সুরে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা না এলে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে আসব। এলাকার মানুষকে নিয়ে আপনাদের বাড়ি ঘেরাও করব। তখন আর ডিম নয়, ইট মারব। তাই অনুরোধ করছি অবিলম্বে কাজে ফিরুন।’