• হবু স্ত্রীর হাতে ‘খুন’ নাতি, শোক সইতে না পেরে ১৬ দিনের মাথায় মৃত্যু কেতনের ঠাকুরদার
    প্রতিদিন | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • নাতির মৃত্যুর পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এবার মৃত্যু হল কেতন আগরওয়ালের ঠাকুরদারও। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হন কেতনের ঠাকুরদা দেবীচাঁদ আগরওয়াল। রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রি ওয়েডিং ফটোশুটে গিয়ে নাতির খুনের ঘটনায় প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছিলেন দেবীচাঁদ।

    গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন কেতন, বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে। সেখানেই পাহাড় থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় কেতনকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে। জানা গিয়েছে, নাতির এমন মর্মান্তিক পরিণতির পরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন দেবীচাঁদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি থাকে তাঁর। শনিবার নিজের বাড়িতে থাকাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হন দেবীচাঁদ। রাত পৌনে দশটা নাগাদ ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

    প্রসঙ্গত, কেতনের হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। এবার তদন্তকারীদের নজরে সিয়ার এক অজ্ঞাতপরিচয় বন্ধু। দু’জনের কথোপকথনের একটি চ্যাট ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল ওই চ্যাটে দেখা যাচ্ছে, সিয়া তাঁর বন্ধুর সঙ্গে কিছুটা ‘সাংকেতিক ভাষায়’ কথা বলছেন। এক পর্যায়ে সিয়া তাঁর বন্ধুকে বলেন, “বিয়ের জন্য বিমানের টিকিট কাটতে হবে। আধার কার্ডের ছবিটা পাঠিয়ে দিস। যদিও ওই বিয়ে কোনওদিন হবে না।” জানা গিয়েছে, চ্যাটটি সিয়ার হবু স্বামী কেতন বিশাল আগরওয়ালের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ আগের। যদিও চ্যাটটির সত্যতা এখনও পর্যন্ত যাচাই করা হয়নি। আপাতত ওই বন্ধুর খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

    উল্লেখ্য, , ফেব্রুয়ারিতে বাগদান সেরেছিলেন সিয়া ও কেতন। জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বরে তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু প্রাথমিকভাবে মত দিলেও পরে বিয়ে করতে চাননি সিয়া। সেকথা হবু স্বামীকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিয়ার দাবি, পরিবারের এতটাই চাপ ছিল যে বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তাই কেতনকে হত্যা করার পথ বেছে নেন। প্রায় একমাস ধরে পরিকল্পনা করে কেতনকে হত্যা করেন সিয়া, অভিযোগ তেমনই। আর এই কাজে তাঁকে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিক চেতনের বিরুদ্ধে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)