• স্বামীকে খুনের পর বাথরুমে দেহ পুঁতে টাইলস বসায় স্ত্রী! আগ্রা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্তম্ভিত পুলিশও
    প্রতিদিন | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃত সুরেন্দ্রকুমার শর্মার স্ত্রী রুবিকে দফায় জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে যে তিনি খুন করে মেঝেতে পুঁতে রেখেছিলেন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, কীভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তাও জানিয়েছেন বলে খবর। ঘটনার পরই বাথরুম মেরামতের জন্য যে রাজমিস্ত্রিকে ডাকা হয়েছিল তাঁকেও দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই রাজমিস্ত্রির দাবি, এলাকার একটি পাশের বাড়িতে কাজ করতেন তিনি। সেই সূত্রেই অভিযুক্ত রুবি তাঁকে ডেকে ছিলেন। বলা হয়েছিল, বাথরুম মেরামত করে দিতে হবে। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার আগেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী তাঁকে হতে হয়েছিল বলে দাবি ওই মিস্ত্রীর।

    তাঁর দাবি, সুরেন্দ্রকুমার শর্মার বাড়িতে যাওয়ার পর কোন কোন জায়গায় মেরামত হবে তা খতিয়ে দেখছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই নজরে আসে, অভিযুক্ত ওই মহিলা নিজেই বাথরুমে মাটি ভরাট করছেন। বিষয়টি দেখে বেশ কিছুটা অবাকই হন। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, সেই সময় ওই মহিলার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন উনি মাটি ভরাট করছেন। আরেকজন মিস্ত্রী দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলাম। কিন্তু রাজি হননি। শুধু তাই নয়, পুরো বিষয়টি যে তিনি একাই করে নিতে পারবেন, তাও জানিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই রাজমিস্ত্রি বলেন, ”চার বাই ছয় ফুটের বাথরুমের আকার। তুলনামূলক অনেকটাই নিচু ছিল ওই বাথরুম। সেটা ভরাট করে উঁচু করা হয়। এরপর সিমেন্ট দিয়ে মেঝে প্লাস্টার করে দি। বসানো হয় টাইলস।” কিন্তু মেঝের নিচে যে দেহ পুঁতে রাখা হয়েছে তা বুঝতেও পারেনি, বলছেন ওই রাজমিস্ত্রি।

    এরপরেই শুক্রবার সেই মেঝে খুঁড়েই সুরেন্দ্রের দেহ উদ্ধার হয়। অন্যদিকে সুরেন্দ্রের স্ত্রী রুবিকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ক্ষীর খেতে ভালবাসতেন সুরেন্দ্র। সেই ক্ষীরের সঙ্গেই একাধিক ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ঘুমের মধ্যেই নৃশংসভাবে সুরেন্দ্রকে রুবি খুন করে বলে দাবি। শুধু তাই নয়, তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দেহ প্রথমে রুবি ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে দেহ বাথরুমে নিয়ে যান রুবি। সবার নজর এড়িয়ে মেঝে খুঁড়ে পুঁতে দেন। প্রমাণ লোপাট করতেই তার উপর বসিয়ে দেওয়া হয় টাইলস। তদন্তকারীদের দাবি, প্রত্যেকদিনই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন সুরেন্দ্র। যা নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। সেই কারণেই এই খুনের ঘটনা বলে দাবি প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)