প্রেমিকের সাহায্যে স্বামীকে খুন করে আত্মহত্যা দেখানোর চেষ্টা! ডিলিট চ্যাটের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার স্ত্রী
প্রতিদিন | ০৫ জুলাই ২০২৬
২৩ দিন আগে এক খাল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ২১ বছরের মনু নামে এক যুবকের দেহ। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলেই ধরে নিয়েছিল হরিয়ানার রেওয়াড়ি জেলার পুলিশ। তবে তদন্তে নেমে মনুর মোবাইল খতিয়ে দেখতেই উলটে পালটে গেল যাবতীয় হিসেব। জানা যাচ্ছে, আত্মহত্যা নয়, খুন করা হয়েছে মনুকে। এই খুনের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী তন্নু ও প্রেমিক সোনু।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৩ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল মনু ও তন্নুর। বিয়ের পর রাজস্থানের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ নেন মনু। তবে ৩ বছর আগে বিয়ে হলেও এতদিনে মোট তিন থেকে চারবার শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন তন্নু, তাও অল্পদিনের জন্য। পুলিশের দাবি, এই খুনের ঘটনার সূত্রপাত ৭ জুন। ওই দিন মনু তাঁর পরিবারকে জানায় স্ত্রীকে আনতে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন তিনি। ৮ জুন বেতন পাওয়ার পর সেই টাকা সঙ্গে নিয়ে নিজের স্কুটারে রওনা দেন তিনি। তবে ৯ তারিখেও মনু না ফেরায় তন্নুর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর পরিবার। এরপর পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। ১০ জুন আসলওয়াস গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে উদ্ধার হয় মনুর দেহ। তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় আত্মহত্যা বলেই ধরে নেয় পুলিশ। দেহ বাড়ি আসার পর শোকে ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁর স্ত্রী তন্নুকেও। আত্মহত্যার মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর মনুর ফোন তাঁর পরিবারের হাতে ফেরত দেয় পুলিশ। সেখানেই দেখা যায়। মোবাইলের সমস্ত ডেটা মুছে দেওয়া হয়েছে। এতেই সন্দেহ হয় পরিবারের।
হারানো ডেটা উদ্ধারে সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য চায় মনুর পরিবার। সেই তথ্য হাতে পাওয়ার পর জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের দিন স্ত্রীকে ৪৯ বার ফোন করেন মনু। ৩ বার ফোন ধরে তন্নু। অল্প সময় কথা হয় তাঁদের। সন্দেহ হওয়ায় নতুন করে খুনের মামলা দায়ের করে পরিবার। নতুন করে তদন্ত শুরু হতেই তন্নুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে যাবতীয় অপরাধ স্বীকার করে নেন তন্নু। এই হত্যাকাণ্ডে প্রেমিক সোনু ও তাঁর সহযোগীর যুক্ত থাকার কথাও পুলিশকে জানায় মনুর স্ত্রী।
জেরায় অভিযুক্তরা জানায়, প্রথমে মনুর মুখ ও নাক চেপে ধরে তাঁকে অজ্ঞান করা হয়। তারপর হত্যাকাণ্ডটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর জন্য তাঁকে খালে ফেলে দেয়। তাঁর স্কুটারটি খালের কাছে পার্ক করা ছিল। ঘটনার তদন্তে তন্নু ও তাঁর প্রেমিক সোনুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার নেপথ্যে থাকা তৃতীয় ব্যক্তির খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।