• চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, রণক্ষেত্র আরামবাগ মেডিক্যালে
    এই সময় | ০৫ জুলাই ২০২৬
  • সাপের কামড়ে জখম হয়েছিল স্কুল পড়ুয়া। তড়িঘড়ি তাকে ভর্তি করানো হয় আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। রবিবার চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। মৃতের নাম তমসী পাল (১৬)। তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তমসীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসার গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে ওই স্কুল পড়ুয়ার। এ দিন কর্তব্যরত চিকিৎসককে ঘেরাও করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আরামবাগ থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    পুলিশ জানিয়েছে, তমসী দশম শ্রেণির ছাত্রী। আরামবাগের বাদলকোনা এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্রী। শনিবার রাতে আচমকা সাপে কামড়ায় তাকে। পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে ভর্তি করানো হয় তাকে।

    তমসীর পরিবারের অভিযোগ, ভর্তি করানো হলেও সময়মতো চিকিৎসা শুরু করেননি কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এমনকী, অবস্থার অবনতি হচ্ছে দেখে তমসীর পরিবারের তরফে ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসক ও নার্সদের বারবার অনুরোধ করা হয়। তাতেও লাভ হয়নি কোনও। উল্টে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। তমসীর পরিবারের দাবি, চিকিৎসার অভাবেই মৃত্যু হয়েছে তার। চিকিৎসক ও নার্সদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃতের পরিবারের লোকজন।

    চিকিৎসক সোহমদেব বক্সী বলেন, সাপে কামড়েছিল ওই পড়ুয়াকে। ইমার্জেন্সি থেকে ওয়ার্ডে আনার সময়েই তার অবস্থার অবনতি হয়। আমরা সব রকম চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওকে বাঁচানো যায়নি। তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’ তমসীর দাদা অরিজিৎ পাল বলেন, ‘আমার বোনকে সাপে কামড়েছিল। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি থেকে বলা হয়েছিল কোনও বিষক্রিয়া হয়নি শরীরে। কিন্তু পরে আমার বোন মারা যায়। প্রথম থেকে ভালো ভাবে চিকিৎসা হলে আমার বোন আজ বেঁচে থাকত’।

  • Link to this news (এই সময়)