আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরবঙ্গে বন্যা ও ধস পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে মহাকরণ বা নবান্নের চেয়েও বেশি তৎপরতা দেখা গেল শিলিগুড়ির উপ-সচিবালয় উত্তরকন্যায়। সেখানে শুক্রবার প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক আমলা ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তবে এই বৈঠকের পর সবথেকে বড় চমকটি এসেছে বাম শিবির থেকে। রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের এই আগাম প্রশাসনিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। একই সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জিকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করতেও ছাড়েননি তিনি।
এদিন শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাফ জানান, আগের তৃণমূল সরকার যা করেনি, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে সেটাই করছে। উত্তরবঙ্গের বন্যা এবং ধস পরিস্থিতি নিয়ে আগের মুখ্যমন্ত্রীর আমলে কোনও আগাম বৈঠক করা হতো না বলে অভিযোগ তুলে সেলিমের মন্তব্য, নতুন সরকার এবার অন্তত আগে থেকে প্রস্তুতি বৈঠক করছে, এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভালকে ভাল এবং সাদাকে সাদা বলার সাহস রাখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এরপরই মমতা ও অভিষেক ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ করে সিপিএমের শীর্ষনেতা খোঁচা দেন, অভিষেককে চোখ দেখানোর জন্য বারবার বিদেশে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই, বরং মমতা ব্যানার্জির নিজের চোখ দেখানো উচিত। কারণ এতদিন ধরে তিনি রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি নিজের চোখে না দেখে, কেবল অভিষেকের চোখ দিয়েই সবকিছু দেখছিলেন।
নতুন সরকারের কাজের ধরন নিয়ে সেলিম আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের যাবতীয় কাজের খতিয়ান নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করার কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। বামেরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার অন্তত শ্বেতপত্রটি প্রকাশ হোক এবং উপযুক্ত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বেআইনি অস্ত্র এবং কোটি কোটি কালো টাকা উদ্ধার করার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গ সফরে এসে পূর্বতন সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর এই শাখা সচিবালয়টি তৈরি হলেও তা উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, উত্তরকন্যায় অবিলম্বে একটি ‘পাবলিক গ্রিভান্স সেল’ বা জনঅভিযোগ সেল চালু করতে হবে, যাতে উত্তরের সমস্ত জেলার সাধারণ মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনের কাছে নথিভুক্ত করাতে পারেন। বৈঠক শেষে পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, উত্তরকন্যাকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করে তুলতে দ্রুত সেখানে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন দক্ষ আধিকারিককে নিয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে উত্তরের জেলাগুলির প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।